বিশেষ প্রতিবেদক অসিত কুমার ঘোষ (বাবু)ঃ রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হেলমেট পুলিশের গাড়ী ভাংচুরকারী ঢাকা সিটিকর্পোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রদল সভাপতি প্রার্থী মো: এইচকে হোসেন আলী ওরফে হৃদয় খানসহ ৬ জনের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
দশ দিন করে রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস এ রিমান্ডের আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন-শাহাজানপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো: সোহাগ ভূইয়া, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো: আব্বাস আলী, ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রবিন, ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন উজ্জল ও ছাত্রদলের তিতুমীর কলেজ শাখার সহ-সভাপতি মো: মাহবুবুল আলম। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মো: কামরুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য বিএনপির নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গত ১৪ নভেম্বর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জারিকৃত নির্বাচন আচরণবিধিতে ব্যান্ড পার্টি, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শোডাউন করার নিষেধাজ্ঞা সত্বেও বিএনপিনেত্রী আফরোজা আব্বাসের নেতৃত্বে একটি মিছিল ফকিরাপুলের দিক থেকে ব্যান্ড পার্টি, ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শোডাউন করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আসে। এরপর নবী উল্লাহ নবী ও কফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে দুটি মিছিল শোডাউন করে একই দিকে আসতে থাকে এবং সর্বশেষ মির্জা আব্বাস ৮ থেকে ১০ হাজার জনের একটি মিছিল নিয়ে কার্যালয়ে আসেন। তারা নয়াপলন্টস্থ ভিআইপি রোড বন্ধ করে মিছিল ও শোডাউন করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে।
যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করার জন্য তাদের রাস্তার এক লেন ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়। তাদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি বিএনপি অফিসে অবস্থানরত রুহুল কবির রিজভীসহ অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের জানানো হয়। অফিসের মাইকের মাধ্যমে যানবাহন চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ঘোষণা দিতে অনুরোধ করা হয়। বেলা ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে নয়াপল্টনস্থ ভিআইপি রোডে হকস বে-নামীয় গাড়ির শোরুমের উত্তর পাশে রাস্তায় আসামিরা বিএনপির পার্টি অফিস থেকে লাঠি-সোটা নিয়ে রাস্তায় দাঙ্গা করে পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। তারা কয়েকটি ককটেল বোমা নিক্ষেপ করে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে। এ সময় তারা ৬০ লাখ টাকার একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
রিমান্ড আবেদনে আরো বলা হয়, তাদের নিক্ষিপ্ত ইটের আঘাতে সহকারী পুলিশ কমিশনার মিশু বিশ্বাসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য মারাত্মক জখম হয়। আসামীদের মধ্যে হৃদয় থানা হেলমেট পরে লাঠি দ্বারা পুলিশের ব্যবহৃত মিটসুবিসি গাড়ী ভাংচুর করে এবং হোসেন আলী, সোহাগ ভূইয়া ও আব্বাস আলী তাদের পরিহিত শার্ট খুলে খালি গায়ে আনন্দ প্রকাশ করে এবং পুলিশকে উদ্দেশ্যে করে গালিগালাজ করে। তাই মামলার এজাহারনামীয় অন্যান্য পলাতক আসামিসহ ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের মুল পরিকল্পনাকারীসহ ইন্ধন ও মদদ দাতাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহপূর্বক গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা প্রয়োজন।
আসামী পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিাতর সভাপতি গোলাম মোস্তফা খান রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ধানদন্ডিতে রাস্তা ব্লক করলে সমস্য হয়না। যতো সমস্য বিএনপি করলে। নির্বাচন কমিশনের দিক থেকে কোন নিধেধাজ্ঞা না থাকলেও পুলিশের উস্কানিতে সেদিন ওই ঘটনা ঘটে। সেদিন নির্বাচনে যারা নোমিনেশন জমা দিতে এসেছিল তাদের সমর্থকরা সেদিন পুলিশের ওই আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করেছিল। তারা নিশ্চই করেছে। শুধু পুলিশের মারবে খেয়ে যাবে, কিছু বলবে না তাতো হয়না। পুলিশ বলেছে এরা সনাক্তকৃত, তাহলে রিমান্ডের কি প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় গত ১৪ নভেম্বর দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানসহ দুটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সংঘর্ষে পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা, দুজন আনসার সদস্যসহ ২৩ পুলিশ সদস্য আহত হন। ওই ঘটনায় ওইদিন রাতে পুলিশ বাদী হয়ে পল্টন থানায় পৃথক তিনটি মামলা করে।




