আবু নাসের হুসাইন, সালথা প্রতিনিধি: লিবিয়ায় মানবপাচারকারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ২৬ বাংলাদেশি। আহত হয়েছেন ১১ বাংলাদেশি। এরমধ্যে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদি ইউনিয়নের আলমপুরা গ্রামের কামরুল শেখ নিহত হয়েছেন বলে খবরটি নিশ্চিত করেছেন কামরুলের বড় ভাই ফারুক শেখ। নিহত কামরুল ওই গ্রামের কবির শেখের ছেলে। তার পরিবারে মা-বাবা, ৩ভাই, ২বোন, স্ত্রী ও আড়াই বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
মর্মান্তিক এই মৃত্যুর খবরে নিহতের বাড়ি ও এলাকায় চলছে শোকের মাতম। স্বজন ও গ্রামবাসীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। স্বজনদের হৃদয় বিদায়ক কান্না যেন কোনভাবেই বাধ মানছে না।
নিহত কামরুলের পিতা কবির শেখ কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, অভাব অনটনের সংসার। আশা ছিলো ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে যদি একটু সুখের মুখ দেখতে পারি। সেই আশা নিয়ে দালালদের কথা মতো সমিতি থেকে লোন ও জমি বিক্রির সাড়ে চার লাখ টাকা জোগার করে গত ডিসেম্বর মাসে পাঠানো হয় বিদেশে। ছেলের উজ্জল ভবিষ্যতের পাশাপাশি পরিবারের স্বচ্ছ্বলতার কথা ভেবেই তাকে বিদেশ পাঠানোর তড়িঘড়ি সিন্ধান্ত নিয়েছিলেন কবির শেখ। কিন্তু স্বপ্নপূরণ তো দূরের কথা উল্টো লিবিয়া থেকে দালালরা ফোন করে ১০ লাখ টাকা দাবী করে আসছিলো কিছুদিন যাবত। তিনি বলেন, পাশর্^বর্তী গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার গোয়ালা গ্রামের দালাল আব্দুর রব এর মাধ্যমে ভারত ও দুবাই হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান কামরুল।
নিহতের বড় ভাই ফারুক শেখ জানান, কামরুল লিবিয়া যাওয়ার পর থেকেই টাকার জন্য দালালচক্র লিবিয়ার একটি শহরে কামরুল আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে। তাদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে পাচারকারী চক্রটি। ভাইয়ের জীবনের কথা চিন্তা করে টাকা দিতে রাজিও হন তারা। কিন্তু টাকা পাঠানোর আগেই খবর এলো দালালচক্র লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মিজদা শহরে কামরুলসহ ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করেছে।
সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, লিবিয়ায় গুলিতে কামরুল নিহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হাসিব সরকার বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের খোজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাদের সর্বাত্তক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। এছাড়াও যে দালাল চক্রের দ্বারা এমন ঘটনা ঘটেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) লিবিয়ায় ৩০জন অভিবাসীকে গুলি করে হত্যা করে মানবপাচারকারীরা। এরমধ্য ২৬ জনই বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অন্য চারজন আফ্রিকান অভিবাসী। এঘটনায় ১১ জন বাংলাদেশি আহত হয়ে প্রাণে বেঁচে গেছেন।




