কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় শিল্পকলার অস্তিত্ব নেই প্রায় একযুগ ধরে,প্রকৃতপক্ষে শিল্পকলাটির কার্যক্রম ফাইল বন্দি,কিন্ত বাস্তবে এর কোন অস্তিত্ব নেই। উপজেলাঝুরে বিভিন্ন লোক সংগীত এর গুনি শিল্পী থাকা স্বত্বেও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য স্থানীয় সংস্কৃতি, সংগীত ধরে রাখার কোন উদ্যোগ নেই, এরই মধ্যে উপজেলার কয়েকজন গুনি শিল্পী, সংগীত ওস্তাদ মারা গেছেন। যে কারনে উপজেলাতে নেই শিল্প সংস্কৃতির চর্চা বা অনুশীলন।
দেশের বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলিতেও স্থানীয় শিল্পকলার কোন ভূমিকা দেখা যায় না। সরকারী অনুষ্টানগুলিতে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠা কয়েকটি স্থানীয় শিল্পীগোষ্ঠী সংগীত অনুষ্ঠান করতে দেখা যায়। এ নিয়ে স্থানীয় সংগীত শিল্পী ও সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। ২০১২ সালের পূর্বে স্থানীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে শিল্পকলা একাডেমীর কার্যক্রম ঝাকজমকপূর্ন ছিলো। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বর্তমানে ভবনটি ঝরাঝির্ন পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। সেই থেকেই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাইনবোর্ডটিও চোখে পড়ে না। এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা তৎকালীন ইউএনও দের কাছে বারংবার শিল্পকলার জন্য বাংলাদেশ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বিষয়ে জানতে গেলে কোন তথ্য দেওয়া হয়নি। কৌশলে উপজেলা প্রশাসনের ভিতরে পুরাতন একটি জেনারেটরের রুমকে উপজেলা শিল্পকলা হিসেবে সাংবাদিকদের দেখানো হয়েছিলো। প্রকৃত পক্ষে তালাবদ্ধ এই ঘরটিতে শিল্পকলার কোন সাইনবোর্ড ও কোন যন্ত্রপাতি ছিলোনা।
২০১২ সালের পরে শিল্পকলার কার্যক্রম না থাকলেও শিল্পকলা একাডেমীর ওস্তাদ নিয়োগ থেমে ছিলোনা। স্থানীয় সংগীত শিল্পী ওস্তাদ লাল মিয়া দীর্ঘ দিন রোগব্যাধী ভোগের পর মারা যায়, তার মৃত্যুর পর স্থানীয় সংগীত শিল্পী শুভাস বর্মনকে ওস্তাদ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিলো। দুইজন ওস্তাদ মৃত্যুর পরও তাদের প্রাপ্য সম্মানী ভাতা পাইনি বলে দাবী করছে দুজনের পরিবার। বর্তমানে সাবেক সেনা সদস্য আবুল কাশেম কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিকলী উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর কোন কার্যক্রম না থাকায় ওস্তাদ আবুল কাশেম ঢাকায় অবস্থান করছেন। এছাড়াও শিল্পকলা একাডেমীর নামে কোন অর্থ তহবিল নেই।
স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের তথ্য মতে ২০১৩ সালে তৎকালীন ইউএনও মোঃ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ২ বছর মেয়াদী একটি কার্য়করী কমিটি ছিলো। সর্বশেষে ২০২১ সালের দিকে তৎকালীন ইউএনও মোঃ শামসুদ্দিন মুন্না একটি এডহক কমিটি করেছিলেন। শিল্পকলার কোন কার্যকরী কমিটি না থাকায় শিল্পকলা কার্যক্রমের কোন ধারাবাহিকতা নাই বলে জানা যায়।
সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ শাকিলা পারভীন এর উদ্যোগে তার অফিসে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি, সংগীতশিল্পী ও সাংবাদিকদের নিয়ে উপজেলা শিল্পকলার নতুন কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য সভা করেন।
এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের সহায়তায় শিল্পকলা একাডেমীর একটি এডহক কমিটি গঠনের জন্য আলোচনা করেন। যা পরবর্তীতে সরকারি নির্দেশনা মতে একটি পনেরো সদস্য কমিটি গঠন করা হবে।
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ শাকিলা পারভীন এ প্রতিনিধি কে জানান, দীর্ঘদিন যাবত শিল্পকলা একাডেমীর কোন পূর্নাঙ্গ কমিটি না থাকায়, নতুন একটি কার্যকরী কমিটি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। কমিটি গঠনের পরই শিল্পকলা একাডেমীর কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।


