নিকলীতে কমিটি গঠন কেন্দ্র করে বিএনপি’র দু-গ্রুপের সংঘর্ষ। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারনে দলের সহ-সভাপতি বহিষ্কার

মোঃ আলমগীর হোসেন,নিকলী(কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ আজ শনিবার নিকলীতে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল,ছাত্রদল ও সেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপি’র দু গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারনে উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতিকে বহিষ্কার করেছে নিকলী উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ।

জানা যায়, কেন্দ্র ঘোষিত উপজেলা বিএনপি’র অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল,যুবদল ও সেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠন উপলক্ষ্যে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও জেলা বিএনপি’র যুগ্নসাধারণ সম্পাদক এডঃ বদরুল মোমেন মিঠু ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু সাঈদ স্বাক্ষরিত নোটিশে আজ শনিবার বেলা এগারো টায় শিমুল কমপেক্সে দলের বর্ধিত সভার আহব্বান করে। উপজেলা বিএনপিতে মিঠু ও ইকবাল গ্রুপে বিভক্ত থাকার কারণে অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠন নিয়ে মতোবিরোধ চলছিলো র্দীঘদিন যাবৎ। পূর্বনির্ধারিত সভাস্থানে সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায়, স্থান পরির্বতন করে সভাপতি মিঠুর বাড়িতে বর্ধিত সভা শুরু করে। এসময় উপজেলা বিএনপি’র সিনিয়ন সহ-সভাপতি ও ইকবাল সমর্থিত কফিল উদ্দিন আহমেদ এর নেতৃত্বে যুবদল সভাপতি পদপ্রার্থী কারার ইকতিয়ার আহম্মেদ আরিফ শ্লোগাণসহ মিছিল নিয়ে সভায় যোগদান করতে গেলে, শ্লোগাণ বন্ধের নির্দেশ দেয় উপজেলা বিএনপি’র নেতৃত্ববৃন্দ।

নির্দেশ অমান্য করে শ্লোগাণ দিতে থাকলে মিঠু গ্রুপের নেতারা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে,এর জের ধরে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয় । পূর্ব থেকে প্রস্তুতি থাকা ইকবাল গ্রুপের কর্মী সমর্থকরা ধারালো অস্ত্র, রামদা ও রড নিয়ে মিঠু গ্রুপের উপর চড়াও হলে,মিঠু গ্রুপের কর্মী সমর্থকরা লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষ রুখে দেয়। এ ঘটনায় কেই আহত হতে দেখা যায়নি। অবশেষে নিকলী থানার পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। অবরুদ্ধে হয়ে উপজেলা বিএনপি’র নেতৃত্ববৃন্দ বর্ধিত সভা শেষ করে। দলের দুঃসময়ে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় নেতৃত্ব দেওয়া ও দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে উপজেলা বিএনপির নেতৃত্ববৃন্দের তৎক্ষনাৎ সিদ্ধান্তে কফিল উদ্দিন আহমেদ কে দল থেকে বহিষ্কাকার ঘোষণা করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে,ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় ইকবাল গ্রুপের যুবদল সভাপতি প্রার্থী কারার ইকতিয়ার আহম্মেদ আরিফ এর সাথে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের যোগ দিতে দেখা যায়।
যুবদল সভাপতি পদপ্রার্থী আরিফ জানায়,তারা ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে নয়,আমার ভাই ,ভাতিজা আতœীয়স্বজন হিসেবে গিয়েছিলো। আমার কোন বিপদ হলে তারা কি ঘরে বসে থাকবে?

নিকলী উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি কারার শাহরিয়ার আহমেদ তুলিপ জানান,কারার ইকতিয়ার আহম্মেদ আরিফ আমার পরিবারের হলেও সে বিএনপি’র নেতা। তার ব্যাপারে আমার বলার কিছু নেই। তবে ছাত্রলীগ কর্মীরা এঘটনায় ছিলো কি না আমার জানা নাই ।

এডঃ বদরুল মোমেন মিঠু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এ প্রতিনিধিকে জানান,কফিল ও আরিফ দলের দুঃসমেয় আন্দোলন সংগ্রামে না থাকলেও কমিটি গঠনের সময় বরাবরই বিরোধ করে থাকে। আমার ভাবতে অবাক লাগে তারা ছাত্রলীগ নেতাকর্মী নিয়ে কিভাবে বিএনপি’র সভা পন্ড করতে আসে?! আরিফ আওয়ামী পরিবারের সন্তান হয়ে সে বিএনপি করলেও আওয়ামীলীগ এর সাথে আতœার সর্ম্পক রয়েছে। যে কারণে আজ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।