নাঃগঞ্জে বি.ডি.এম.ডব্লিও এর উদ্যোগে শান্তি ও সহ অবস্থান বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

বিশেষ প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ মাইনোরিটি ওয়াচ (বি.ডি.এম.ডব্লিও) এর উদ্যোগে শান্তি ও সহ অবস্থান এর লক্ষে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সকল সম্প্রদায় একসঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান করতে করণীয় শীর্ষক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আজ ২৯ নভেম্বর বিকাল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ মন্ডলপাড়াস্থ আলী আহম্মদ চুনকা টেনিং সেন্টরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বি.ডি.এম.ডব্লিও এর সভাপতি এ্যাড. রবীন্দ্র ঘোষের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নাঃগঞ্জ জেলা সহ-সভাপতি ও সাবেক মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বি.ডি.এম.ডব্লিও এর সেক্রেটারী জেনারেল মানিক চন্দ্র সরকার, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট নাঃগঞ্জ জেলা শাখার উপদেস্টা এড. বাদল কৃষ্ণ পোদ্দার। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর টি.কে.পান্ডে, বাংলাদেশ সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস এন্ড ডেভলপমেন্ট এর নির্বাহী পরিচালক মাহবুল হকসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাবেক মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভী বলেন বাংলাদেশ সাম্প্রদায়কি সম্প্রীতির দেশ নাঃগঞ্জে কোন ধরনের ধর্মীয় উশৃংঙ্খলতা নেই আমি কথা দিচ্ছি এখানে সবসময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করে যাব নির্বাচনে কোন ধরনের সহিংসতা হতে দিবনা। কোন ধর্মই অন্যায়কে সমর্থন করে না। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সব ধর্মেরে মুলমন্ত্র হ”চ্ছে শান্তি। সব ধর্ম অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবার আর্দশকে অনুকরণীয় বলে ভাবে। সবাই আমরা মানুষ তাই একে অপরকে ভালবেসে শান্তি রক্ষায় কাজ করে যেেত হবে এটাই বড় কথা।

এড.রবীন্দ্র ষোষ বলেন সারা বিশ্বে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালানো সংখ্যাগরিষ্ঠদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের সর্বত্র যেন দুর্বলের উপরে হামলা করা সবলদের নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ যেন এর ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী একটি জোট ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও সংখ্যা লঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সহিংসতা বন্ধে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিশ্বাসী সরকার তেমন কোন সাফল্য দেখাতে পারনি। বিশেষত সংখ্যালঘুদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ সৃৃষ্টিতে তাদের ব্যর্থতা হতাশাজনক।

মানিক চন্দ্র সরকার বলেন বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। যুগ যুগ ধরে এ দেশের ইতিহাসেই সম্প্রীতির কথা লেখা আছে। ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক থেকে ভিন্নতা থাকলেও বাংলার হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সুদৃৃঢ় সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ। প্রাচীন, মধ্য, আধুনিক কোনো যুগেই এই সহ-অবস্থানের বন্ধন ছিঁড়ে যায়নি। বাংলার ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃৃতি চর্চার এবং পরাধীনতার শৃংখলমুক্ত হওয়ার জন্য বিদেশি ও জালিম শাসকবিরোধী আন্দোলনে, মুক্তিযুদ্ধে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ও আন্দোলনে বাংলার মানুষ বরাবর একাত্ম থেকেছে। সে সব সংগ্রামে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী কোনো আলাদা পরিচয়ই তাদের ছিল না। দেশের সিংহভাগ মানুষ ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও বকধার্মিক ও কান্ড-জ্ঞানহীনদের কারণে কখনো কখনো অন্যায় মাথা চারা দিয়ে ওঠে। তাই সমাজ জীবনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে হলে সমাজের সব সম্প্রদায়কে এক যোগে কাজ করে যেতে হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।