ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষা করা গেলে বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না -তথ্যমন্ত্রী

ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষা করা গেলে বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না -তথ্যমন্ত্রী

ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাত থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধকে রক্ষা করা গেলে বাংলাদেশকে পরাজিত করার মতো আর কোনো শক্তি থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে তিনটি উপাদান বিদ্যমান। দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচিত সরকার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা, যিনি মাওলানা ভাসানীর ধানের শীষ প্রতীক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে ধানের শীষের নেতৃত্ব আজ তারেক রহমানের হাতে এসেছে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এই রাজনৈতিক প্রতীকী রূপান্তরের পেছনে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কৃতিত্ব রয়েছে। মাত্র ৫৫ বছর বয়সে তিনি মারা গেলেও আজকের গণতান্ত্রিক ও বহুদলীয় রাজনীতির ভিত্তি তিনি তৈরি করে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে প্রতিষ্ঠা করার কাজ করছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিকে সামনে রেখে দেশ পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ সময় তিনি বলেন, যাদের দিল্লির প্রতি মোহ রয়েছে কিংবা পিন্ডির প্রতি টান রয়েছে, তাদের ঘুম ভাঙাতেই ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, একটি মহল অবাধ নির্বাচনকে বিতর্কিত ও প্রলম্বিত করতে চেয়েছিল। তবে সরকার গণতান্ত্রিক রাজনীতির অপরিহার্য অংশ নির্বাচনকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে।

তিনি জানান, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে সংসদীয় রাজনীতি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছিল। পরে তা স্বৈরাচার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও পরবর্তীতে শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তিনি দাবি করেন।

মন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে।

আলোচনা সভায় তিনি ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসনের কারণেই সেই সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, খন্দকার মোশতাক থেকে শুরু করে বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম পর্যন্ত যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছিল, সিপাহী-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে শহীদ জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার মধ্য দিয়ে সেই পরিস্থিতি থেকে জাতি মুক্তি পায়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাজনীতিবিদ সৈয়দ দিদার বকত এবং রিটা রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।