বিশেষ প্রতিবেদকঃ দেশের সব দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের ঋণ শোধ হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর এই রক্তঋণ আমরা শোধ করতে পারব তখনই, যখন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে, যখন প্রতিটি মানুষের জীবনকে আমরা অর্থবহ করতে পারব, উন্নত করতে পারব, সমৃদ্ধ করতে পারব। তখনই জাতির পিতার আত্মা শান্তি পাবে।’
বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার পর বাংলাদেশ উল্টো পথে হেঁটেছে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, খুনিদের বিচার তো হয়নি, উল্টো পুরস্কৃত করা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ কেউ হয়তো মুক্তিযুদ্ধে নামে, হয়তো নামে মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু তাদের হৃদয়টা পড়েছিল ওই পাকিস্তানিদের কাছে। তারাই এ দেশের সর্বনাশটা ডেকে আনে। তারাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তারাই এই দেশটাকে সম্পূর্ণ উল্টো দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।’
কৃষক লীগের এই অনুষ্ঠানে রাখা আধঘণ্টার বক্তব্যে বারবারই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড না ঘটলে আর বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত হতো বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের জানা উচিত যে কীভাবে কত বড় বেইমানি হয়েছে। পাকিস্তানি শত্রুরা যেটা পারে নাই। আর ঘরের আপনজন হয়ে দিন-রাত যারা ঘোরাঘুরি করত, তারাই বেইমানি করল। আর এই বাড়িতে এই ধরনের একটা হত্যাকাণ্ড একই সঙ্গে তিনটি বাড়িতে ঘটাল। সংবিধান লঙ্ঘন করেই মোশতাক নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছিল এবং প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেই জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান নিযুক্ত করল। কাজেই এই ষড়যন্ত্রে মোশতাকের সঙ্গে জিয়া তারা যে একইভাবে জড়িত এতে আর কোনো সন্দেহ থাকে না।’





