কালীগঞ্জে ত্রান দিয়ে আবার হাত থেকে কেড়ে নিলেন গ্রামের বিতরনকারীরা

কালীগঞ্জে ত্রান দিয়ে আবার হাত থেকে কেড়ে নিলেন গ্রামের বিতরনকারীরা

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥  ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের প্রভাবশালীরা ত্রানের ব্যাগ দিয়ে আবার নিয়ে নিয়েছে বলে দুই হতদরিদ্র মহিলা অভিযোগ করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার বলিদাপাড়া গ্রামে। বিষয়টি জানতে পেরে বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হতদরিদ্র ওই দুই মহিলার বাড়িতে সংবাদকর্মিদের মাধ্যমে ত্রান পৌছে দিয়েছেন। এদিকে ত্রান বিতরনকারীদের সূত্রে জানাগেছে, তালিকায় নাম না থাকায় এমনটি হয়েছে।

জানাগেছে, রবিবার সন্ধ্যায় পৌর মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ নিজে চাউল বিতরনের উদ্বোধন করে ওই গ্রামের কয়েকজনের ওপর দায়িত্ব দিয়ে মাগরিবের নামাজ পড়তে যান। এরপর দায়িত্বপ্রাপ্তরা তালিকা ধরে মালামাল বিতরনের সময় বলিদাপাড়া গ্রামের হতদরিদ্্র বাহাদুর মিয়ার স্ত্রী সুন্দরী বেগম ও একই গ্রামের হায়দার আলীর স্ত্রী সুফিয়া বেগমকেও দেয়া হয়। কিন্ত তাদের হাত থেকে ত্রানের প্যাকেটটি নিয়ে নেয়া হয়েছে।

হতদরিদ্র সুফিয়া বেগম জানান, আমার স্বামী একজন অসুস্থ হতদরিদ্র মানুষ। পরের জমিতে ঝুপড়ি ঘর বেধে বসবাস করছি। পরের বাড়িতে কাজ করতাম কিন্ত এখন আর কাজ নেই। গতদিন ত্রান পেয়ে মনে করেছিলাম কয়দিন একটু পেট ভরে খেতে পারবো। কিন্ত তার গ্রামের কয়েকজন নিতা এসে ত্রান দিয়ে আবার নিয়ে নেয়। তিনি আরও বলেন, ত্রানের প্যাকেটটি নিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল আমার কলিজা ছিড়ে গেলো।

ত্রান হারানো একই গ্রামের অপর হতদরিদ্র মহিলা সুন্দরী বেগম জানান, আমি নিজে পরের বাড়িতে কাজ করি। স্বামী বয়স্কো হয়ে গেছে তারপরও অসুস্থ। এখন আর কোন কাজ নেই। ঘরে খাবারও নেই। রবিবারের দিন সন্ধ্যার একটু আগে আমাদের গ্রামের স্কুল মাঠে ত্রান দেয়া শুরু হলে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। আমাকেও একটা প্যাকেট দিয়ে আমার গ্রামের হাতেম দফাদারের ছেলে সমির হোসেন, ছাত্তার মল্লিকের ছেলে আফান হোসেন আমার হাত থেকে আবার নিয়ে নেয়। তিনি চোখ দিয়ে পানি ছেড়ে দিয়ে বলেন, সব ঠিক আছে আমরা দরিদ্র মানুষ। আমাদের ক্ষুধা পেটে থাকার অভ্যাস আছে। বরং নতুন করে যারা ক্ষুধায় পড়েছে ত্রানটা হয়তো আমাদের কাছ থেকে নিয়ে তাদের দিয়েছে।

অভিযুক্ত সমির হোসেন এ ব্যাপারে জানান, আমরা ত্রানের মাল দেয়ার জন্য এক স্থানে জড়ো করে রেখেছিলাম। সেখান থেকে ওই মহিলারা একটি করে প্যাকেট নিজেদের মত করে নিয়ে নিয়েছিল। পরে যখন দেখলাম তাদের নাম তালিকায় নেই তখন ত্রানের প্যাকেটটি নিয়ে অন্যদের দিয়েছি।

কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফ জানান, আমাকে পৌরসভার সকল গ্রামে দৌড়াদৌড়ি করে বেড়াতে হচ্ছে। তাই ওই বলিদাপাড়ায় ত্রান বিতরনের উদ্বোধন করেই মাগরিবের নামাজে চলে গিয়েছিলাম। পরে জানতে পারলাম ত্রানের মালামালগুলি তালিকা অনুযায়ী বিতরন শেষ হয়ে গেছে। কিন্ত কারও হাতে মাল দিয়ে নিয়ে নিয়েছে এমন ঘটনা তার জানা নেই। তবে তিনি এমন ঘটনার কথা লোক মুখে শুনে মাল বিতরনকারীদের কাছে জানতে পেরেছি তালিকায় ওই মহিলাদের নাম ছিল না।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূবর্ণা রানী সাহা জানান, এ বিষয়ে মেয়র সাহেবের সাথে কথা হয়েছে। তিনি জানতে পেরেছেন অভিযোগকারী মহিলারা আগের দিন ত্রানের মাল পেয়েছেন। তাই ওই দুই মহিলাকে ত্রান দেয়া হয়নি। তারপরও একজনের নিকট থেকে জানতে পেরে সংবাদকর্মিদের মাধ্যমে ওই দুই মহিলার বাড়িতে দুটি ত্রানের প্যাকেট নতুন করে বুধবার সকালে পৌছে দিয়েছি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।