বাংলাদেশের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বন্ধ করল ভারত

বাংলাদেশের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বন্ধ করল ভারত
ভারত বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর ফলে এখন থেকে বাংলাদেশ আর ভারতের বন্দর, বিমানবন্দর ও স্থল শুল্ক স্টেশন ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য পাঠাতে পারবে না। ২০২০ সালের জুনে চালু হওয়া এই ব্যবস্থাটি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হয়েছে। বর্তমানে যে পণ্যগুলো ভারতের ভেতরে রয়েছে, সেগুলোকে স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হবে—এর বেশি নয়।
নয়াদিল্লির স্পষ্ট বক্তব্য, ভারতের বন্দর ও লজিস্টিক হাবগুলোতে অতিরিক্ত চাপ, দেরি এবং খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় রপ্তানিকারকেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। তাই এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে নিজস্ব সক্ষমতা, দক্ষতা ও জাতীয় স্বার্থকে। তবে এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক সহযোগিতা থেকে সরে আসা নয়। নেপাল ও ভুটানের জন্য ট্রানজিট সুবিধা আগের মতোই বহাল থাকবে। অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি নির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
এই পদক্ষেপের সময় নির্বাচনও তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনুসের মন্তব্যের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই সিদ্ধান্তকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে “দৃঢ় জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পদক্ষেপ” বলে স্বাগত জানিয়েছেন।
এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি খরচ বাড়বে এবং দীর্ঘ বিকল্প রুট খুঁজতে হবে। অন্যদিকে ভারত তার বন্দর ও লজিস্টিক ব্যবস্থায় স্বস্তি পাবে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্যপথ যে কেবল অর্থনীতি নয়, কৌশলগত শক্তিও—এই সিদ্ধান্ত তা আবারও স্পষ্ট করে দিল।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।