ঝুমন দাস আপনের জামিন আবেদন নাকচ

ঝুমন দাস আপনের জামিন আবেদন নাকচ

সিরাজগঞ্জের নবরত্ন মন্দিরের গেটে মসজিদের জন্য দানবাক্স লাগানো নিয়ে পোস্ট করায় আটক সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ঝুমন দাস আপনের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত।

রোববার (০৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল আদালতে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহানের কাছে ঝুমন দাসের পক্ষে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী।

ঝুমনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পঙ্কজ কুমার বলেন, আজ ঝুমনের জামিন আবেদন করি। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেন। আমরা মামলার আগামী তারিখের আগেই উচ্চ আদালতে গিয়ে জামিন চাইব। শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমনুর রহমান বাদী হয়ে ঝুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন। ৩১ আগস্ট বুধবার সকালে শাল্লা থানা থেকে ঝুমন দাশকে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ ঝুমনকে বাড়ি থেকে আটক করে। পরে রাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে,ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে জানিয়েছে ঝুমনের স্ত্রী সুইটি রানী দাশ।

সুইটি রানী দাশ জানিয়েছেন, গতকাল দুপুরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের বাড়িতে আসেন। তারা ঝুমনকে বলেন, এলাকার নোয়াগাঁও বাজারে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঝুমনের সঙ্গে কথা বলবেন বলে ডেকে পাঠানো হয়। এরপর ঝুমন ও তার স্ত্রী সুইটি নৌকায় ওঠেন। কিন্তু পরে নোয়াগাঁও বাজার না গিয়ে তাদের শাল্লা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সারা দিন তিনি ঝুমনের সঙ্গে থানায় ছিলেন। পরে রাত নয়টার দিকে তিনি ঝুমনকে থানায় রেখে বাড়িতে ফিরে আসেন। আজ বুধবার সকালে থানায় ফোন দিলে পুলিশ তাকে জানায়, ঝুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত বছর হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন নেতা মামুনুল হক সনাতন ধর্ম সম্পর্কে কটূক্তি করেছিলেন। এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে – শাল্লা থানায় ঝুমন দাশের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় হয়। ১৬ মার্চ ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টের জেরে ১৭ মার্চ সকালে নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা চালানো হয়। অবশ্য ঝুমন দাশকে ১৬ মার্চ রাতেই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিল তার প্রতিবেশী হিন্দুরা। এরপর ২২ মার্চ শাল্লা থানায় ঝুমন দাশের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। এই মামলায় ২৩ মার্চ ঝুমনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ৬ মাস ১২ দিন কারাবাসের পর গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পান ঝুমন দাশ আপন।

১৪ শতকের প্রাচীন নবরত্ন মন্দিরের প্রধান গেটে দানবাক্স লাগানো নিয়ে ঝুমনের পোস্টে লেখা দেখা যায়, কোন মসজিদের গেটে মন্দিরের জন্য দানবাক্স লাগানোর কল্পনাঅ করতে পারবে না হিন্দুরা। করলে ধর্ম অবমাননার মামলা খেয়ে কারাগারে থাকতে হবে। ওই মন্দিরের আশেপাশে হিন্দুদের এটা অপসারণ করার বিন্দু মাত্র সাহস নেই। এমন কি প্রসাশনের কাছে অভিযোগ করার ও বিন্দু মাত্র ক্ষমতা নেই।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।