জিসিস-র সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো বেগবান হবে -পররাষ্ট্রসচিব

জিসিস-র সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো বেগবান হবে -পররাষ্ট্রসচিব

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) এর সদস্য রাষ্ট্র সমূহের সাথে বাংলাদেশে ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক নতুন উচ্চতায় উঠেছে। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো বেগবান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) মাসুদ বিন মোমেন।

আজ ০৭ মে মঙ্গলবার রিয়াদস্থ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) সচিবালয়ে বাংলাদেশ ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) এর মধ্যে অংশীদারিত্ব জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রথম বৈঠকে তিনি এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র সচিব (সিনিয়র সচিব) মাসুদ বিন মোমেন এবং জিসিসি প্রতিনিধি দলের সভাপতিত্ব করেন জিসিসি সচিবালয়ের সহকারী মহাসচিব (রাজনৈতিক) ড আব্দুল আজিজ আল উয়াইশেগ। এছাড়াও বৈঠকে জিসিসি সদস্য রাষ্ট্র সমূহ থেকে আগত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে আগামী পাঁচ বছরের (২০২৪-২০২৮) রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষা এবং সংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সহযোগিতার খসড়া যৌথ কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় ফিলিস্তিন পরিস্থিতি, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, লোহিত সাগরে পরিবহণ নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে করণীয়, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবেলা, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে উভয় পক্ষের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষিক্ষেত্রে সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাধা দূরীকরন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষায় পররাষ্ট্র সচিব সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পেশ করলে, জিসিসি সদস্য রাষ্ট্রসমূহ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। পররাষ্ট্র সচিবের প্রস্তাবনার মধ্যে চূক্তি ভিত্তিক কৃষি উৎপাদন (Contract Farming), মুক্ত বাণিজ্য চূক্তি, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারীখাতকে যুক্ত করা, নবায়নযোগ্য শক্তিতে সহযোগিতা কর্মপরিকল্পনাতে অন্তর্ভূক্ত সহযোগিতার ক্ষেত্র সমূহে আলোচনা এগিয়ে নেবার জন্য কারিগরী কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়।

আলোচনায় পররাষ্ট্র সচিব মধ্য প্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশে অবিচল সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরো বলেন, জিসিসি অঞ্চলে প্রায় ৫০ লক্ষাধিক বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করেন,যারা বাংলাদেশ ও স্বাগতিক দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাদের সার্বিক সহযোগিতা ও কল্যানের জন্য কাজ করায় তিনি জিসিসি ভূক্ত দেশ সমূহের সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে আলোচিত খসড়া কর্মপরিকল্পনা পরবর্তী পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের সভাতে চূড়ান্ত করার জন্য পেশ করা হবে। উল্লেখ্য, ১৮ নভেম্বর ২০২২ তারিখে জিসিসি এর সাথে বাংলাদেশের মন্ত্রী পর্যায়ের নিয়মিত অংশীদারিত্ব সংলাপ অনুষ্ঠানের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Dutta
লেখক / প্রতিবেদক

Dutta

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।