জনসংখ্যার ১২ শতাংশ সংখ্যালঘুর জন্য ৪২টি আসনের দাবী হিন্দু মহাজোটের

জনসংখ্যার ১২ শতাংশ সংখ্যালঘুর জন্য ৪২টি আসনের দাবী হিন্দু মহাজোটের

দেশের জনসংখ্যার ১২ শতাংশ সংখ্যালঘু অনুপাতে সংসদীয় আসনের ৪২টি ও ছয়টি সংরক্ষিত মহিলা আসন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। এই দাবি না মানলে হিন্দু সম্প্রদায় কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। এমনকি ভোটকেন্দ্রেও যাবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক।

আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য জনসংখ্যা ১২ শতাংশ (হিন্দু-১০, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান-২) অনুপাতে ৩৫০টি আসন হলে ৪২টি আসন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। এর মধ্যে ৩৮টি হিন্দুদের জন্য, বৌদ্ধদের ৩টি ও খ্রিষ্টানদের জন্য ১টি আসন। আর ছয়টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের মধ্যে ৪টি হিন্দু, ২টি বৌদ্ধ সারা দেশের হিন্দু-বৌদ্ধ-আদিবাসী নারীদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন। সারা দেশের প্রাপ্ত ভোট অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো সদস্য মনোনীত করবে।

রাজনৈতিক দলগুলো কখনোই জনসংখ্যার অনুপাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে মনোনয়ন দেয়নি উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, যৌথ নির্বাচনের কারণে স্বাধীনতার ৫৫ বছরে কোনো সংসদেই হিন্দু সম্প্রদায় তাদের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধি পাঠাতে পারেনি।

গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার শিক্ষিত, উদার ও নির্লোভ ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত হয়েছে। আশা করছি, এই সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্কার কমিটি এবং রাজনৈতিক দলগুলো প্রকৃত প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত, দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে আসন সংরক্ষণ ও আলাদা নির্বাচন ব্যবস্থার বাস্তবায়ন করবে। সংখ্যালঘুদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাবে।

সংখ্যালঘু ইস্যু এখন দেশ-বিদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ট্রাম্পকার্ড’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে জানিয়ে গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, ভারতের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে এমনকি আমেরিকার নির্বাচনেও বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ইস্যু তাদের ভোট বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ কেউই স্থায়ী সমাধানের কথা বলছে না। আবার সংখ্যালঘু বিষয়ে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এক ভীতিকর পরিবেশে বাস করছে। হিন্দু জনসংখ্যা ৩৩ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশে নেমেছে।

মহাজোটের সভাপতি দীনবন্ধু রায় বলেন, ‘সংখ্যালঘু হওয়ায় আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, দাবিদাওয়া শোনা হয় না। কিন্তু আমরা আশা করব, সরকার ও অন্যান্য ধর্মের লোকজন যাতে আমাদের সহানুভূতিশীল দৃষ্টি দিয়ে দেখেন।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন, জোটের নির্বাহী সভাপতি প্রদীপ কুমার পাল, সহসভাপতি দুলাল কুমার মণ্ডল। উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি তরুণ কুমার ঘোষ, যুগ্ম মহাসচিব হেমন্ত দাস, বিপুল বিশ্বাস, নকুল কুমার মণ্ডলসহ মহাজোটের বিভাগীয় মহাজোট, মহিলা মহাজোট, যুব মহাজোট ও ছাত্র মহাজোটের নেতারা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।