জনগণই দেশের আসল মালিক, দল-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য – প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল

জনগণই দেশের আসল মালিক, দল-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য – প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল
জনগণই দেশের আসল মালিক

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সরকারের মূল আদর্শ হলো আর্তপীড়িত দুঃখী মানুষের সেবা করা এবং দেশবাসীকে মূল মালিক হিসেবে বিবেচনা করে তাদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন করা। দল, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকল বাংলাদেশীর সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের একমাত্র ‘ধর্ম ও কর্ম’।

আজ চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার সরকার হাটস্থ গনি কমিউনিটি সেন্টারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘প্রত্যাশী’ আয়োজিত সংস্থার সংগঠিত সদস্য ও ক্ষতিগ্রস্ত বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করি।

দায়িত্ব নেওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সকল সেবা প্রদানকারী সংস্থা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— আমাদের দেশের প্রকৃত মালিক হচ্ছে এদেশের সাধারণ জনগণ। কাজেই জনগণের সেবা সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে।

আমাদের প্রত্যেকের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা সুনিশ্চিত করা এবং মালিকরূপী এই সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো বাস্তবায়নে নিরলস সহায়তা করা।”

অতীতের ত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, বিগত ১৯ বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এর অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হয়েছে।

চরম প্রতিকূলতা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও দলের প্রতিটি ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা পর্যায়ের সদস্যরা সর্বদা দুঃখী, অসহায় ও পীড়িত মানুষের পাশে থেকে সেবা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করেছে।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, “আমাদের রাজনীতিতে কোনো বাছ-বিচার নেই। আমরা সম্মিলিতভাবে দল-মত ও ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিটি বাংলাদেশী নাগরিকের পাশে দাঁড়াতে চাই এবং সেবা করতে চাই।”

হাটহাজারীর সাম্প্রতিক দৃশ্যমান অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, “বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সাড়ে পাঁচ মাসে (১৬৫ দিনে) হাটহাজারীতে সাড়ে চারশ’র বেশি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৮০টি উন্নয়ন কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বা শেষের পথে রয়েছে। বিগত ১৯ বছরে কি হাটহাজারীতে এমন অভূতপূর্ব বিশাল কর্মযজ্ঞ হয়েছে? হয়নি।”

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও মনে করিয়ে দেন, আজ থেকে ১৯ বছর আগে হাটহাজারীর সড়ক ও অবকাঠামোগত অবস্থা এতটাই বেহাল ছিল যে আমাদের মা-বোনদের চলাচলে চরম কষ্ট পোহাতে হতো। বর্তমান সরকার সেই সব চলাচলের সড়ক প্রশস্তকরণ এবং যানজট নিরসনে পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি হাটহাজারীর সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রত্যাশী’ সংস্থার সংগঠিত সদস্য ও এলাকাভুক্ত বন্যার্ত মানুষের হাতে ত্রাণ সহায়তা তুলে দেন।

‘প্রত্যাশী’ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মনোয়ারা বেগম-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
লেখক / প্রতিবেদক

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।