চায়ের দোকানে আড্ডা? আর না-আর না আছে মন্টু চেয়ারম্যান

চায়ের দোকানে আড্ডা? আর না-আর না আছে মন্টু চেয়ারম্যান

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥ চলছে লকডাউন। দিন যত পার হচ্ছে বিশ্বব্যাপি করোনায় আক্রান্তদের মৃত্যুর মিছিল ততদীর্ঘ হচ্ছে। সংখ্যায় কম হলেও সংক্রমন দেখা দিয়েছে বাংলাদেশেও। সরকারী রেকর্ড অনুযায়ী বেশ কয়েকজন মারাও গেছে। এ ভয়াবহতা থেকে মুক্ত থাকতে সরকারের উপরি কর্মকর্তারা বলছেন সকলেই নিজ ঘরে নিরাপদে অবস্থান করেন।

যারা সচেতন তারা আজ বেশিরভাগ নিজ ঘরে অবস্থান করছেন। খেটে খাওয়া কৃষক, শ্রমিকসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ নিয়ম মেনেই চলছেন। কিন্ত গ্রামাঞ্চালের বাজারগুলোর অনেক চায়ের দোকান খোলা রেখে এক শ্রেণীর অসচেতন মানুষের ভীড় করাচ্ছেন। এটা রোধ করতে ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের রাখালগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মন্টু যুদ্ধে নেমেছেন।

তিনি তার ইউনিয়নের সকল বাজারের চায়ের দোকান মালিকদের তালিকা করে অনেক আগেই ত্রান সামগ্রী নিজে মটর সাইকেল যোগে বাড়ি বাড়িতে গিয়ে পৌছে দিচ্ছেন আর বলে আসছেন দোকান খোলার দরকার নেই। বাড়িতে বসেই আপনারা খাবার পেয়ে যাবেন। তারপরও এক শ্রেণীর চায়ের দোকান মালিক গোপনে দোকান খুলে মানুষের ভীড় করাচ্ছেন। এমন অবস্থার কথা খবর পেলেই চেয়ারম্যান মন্টু নিজে এসে চা তৈরীর কেটলি নিয়ে চলে যাচ্ছেন। কাজটি বেশ ভালো করছেন বলে অনেক মহল চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।

চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম মন্টু জানান, প্রথমে তিনি তার ইউনিয়নের বাজারগুলোতে জনসমাগম কমানোর জন্য অনুরোধ করেছেন। পরে বেশ পরিবর্তন দেখা গেলেও দেখলেন চায়ের দোকানগুলোতে ভীড় কমছেই না। তাদের দোকান বন্ধ করলে তাদের পরিবারের লোকজন না খেয়ে থাকবে। তাদের কথা মাথায় নিয়ে আগে তার ইউনিয়নের মোট ৩২০ জন চা দোকান মালিকের তালিকা করে সকলের আগে তাদের বাড়ি বাড়িতে নিজের অর্থায়নে নিজে গিয়ে ত্রান পৌছে দিয়েছেন। তারপরও কেউ কেউ দোকান খুলে অযথা মানুষের ভীড় করাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে ত্রান পাওয়া দোকান মালিকদের দোকান খোলা পেলেই চা তৈরীর কেটলি নিয়ে চলে আসছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৯০ টি কেটলি নিয়ে এসেছেন। সবগুলো কেটলিতে নাম লিখে রাখছেন লকডাউন শেষ হলে কেটলিগুলো ফেরত দেবেন।

কেটলি নিয়ে আসা দোকান মালিকদের কাছে নিজের মোবাইল নাম্বার দিয়ে আসছেন নিজেও খোঁজ রাখছেন কারও বাড়িতে খাবার ফুরিয়ে গেলেই খাবারসামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন। এখন আর তার ইউনিয়নের চায়ের দোকানগুলোতে অযথা মানুষের ভীড় নেই। আবার কোন দোকান মালিকের পরিবার না খেয়েও নেই। এ করা ছাড়া কোন উপায় ছিলনা।

ওই রাজু আহম্মেদ নামের ওই ইউনিয়নের এক বাসিন্দা জানান, সব সময় চায়ের দোকানে এক শ্রেণীর মানুষ বসে অযথা সময় কাটায়। তারা অধিকাংশই কোন কাজ করে না। চায়ের দোকানের এ ভীড় হতে পারে ক্ষতির কারন। চেয়ারম্যান যেহেতু চা দোকান মালিকদের অনেক আগেই ত্রান বাড়ি বাড়ি পৌছে দিয়েছেন বৃহদ স্বার্থে তাদের দোকান বন্ধ রাখা উচিৎ।এখন চেয়ারম্যান সকল চায়ের দোকানের আড্ডা ভেঙে দিয়েছেন। বাজারে এখন মানুষের জটলাও কমে গেছে। জটলা হচ্ছে এমন খবর শুনলেই তিনি চলে যাচ্ছেন সেখানে।

ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে চেয়ারম্যান যা করছেন তিনি ধন্যবাদ পাওয়ারযোগ্য। তার এ উদ্যোগকে মানুষ স্বাগত জানিয়েছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।