× Banner
সর্বশেষ
ধর্মমন্ত্রীর আশু আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের বিশেষ দোয়া দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া স্বচ্ছ নিয়োগের প্রমাণ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৫-২৬ জুলাই ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিআইইআর সামিট ২০২৬ বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন, পরিকল্পিত আধুনিক নগর গঠনের উদ্যোগ বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য, কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ার পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী FICCI FDI Conference 2026-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে FICCI FDI Conference 2026, উন্মোচিত হলো এফডিআই রিপোর্ট মাদারীপুরে বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় দপ্তরিদের শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কোটালীপাড়ায় উল্টো রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল

চট্টগ্রামে ৩০ টি পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

admin
হালনাগাদ: মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

রাজিব শর্মা, চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রাম নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় চলছে ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজি। অলঙ্কার রোড, বারিক বিল্ডিং, জিইসি রোড, সিটি গেট মোড়ে প্রকাশ্যেই চলছে এ চাঁদাবাজি। কিছু অসাধু কর্মকর্তা মালবাহী গাড়ি থেকে ভাড়া করা লোক দিয়ে টাকা তুলছে। তাদের বলা হয় টেন্ডল। একজন ট্রাফিক সার্জেন্টকে দিনভর চাঁদা আদায় করে দিলে তারা পায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

চট্টগ্রাম জেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শফিকুর রহমান দি নিউজকে বলেন, আগে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্টরা কনস্টেবল পাঠিয়ে চাঁদা নিতেন। এখন সার্জেন্টদের নিয়োগ দেয়া সাদা পোশাকধারী কিছু লোক মোড়ে মোড়ে গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায় করেন। টাকা নিয়ে তারা সার্জেন্টদের হাতে তুলে দেন। নগরীর অলঙ্কার রোড, সিটি গেট, নয়াবাজার, জিইসি রোড, নতুন ব্রিজ, কালুরঘাট, বহদ্দারহাট, সদরঘাট এলাকায় পুলিশের ভাড়া করা এসব লোক ব্যাপক চাঁদাবাজি করছেন। এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় আমরা ট্রাফিকের ডিসির কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

দি নিউজের সরেজমিন দেখা যায়, শনিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে নগরীর অলঙ্কার মোড়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন সার্জেন্ট সাহেদ ইকবাল, কনস্টেবল মনির ও আমিনুল এবং সাদা পোশাকে থাকা এক যুবক। সিটি গেট এলাকার দিক থেকে একটি খালি ট্রাক (ফেনী-ট-১১-০৩৮৮) আসতে দেখে থামার সঙ্কেত দেন কনস্টেবল আমিনুল। সঙ্গে সঙ্গে ট্রাকের চালকের কাছে এগিয়ে যান সাদা পোশাকে থাকা ওই ব্যক্তি। তার হাতে ১০০ টাকার কয়েকটা নোট গুঁজে দেন চালক। ট্রাক চলে যাওয়ার পর সার্জেন্টের কাছে গিয়ে ওই টাকা দিয়ে আসেন তিনি। ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের কাছ থেকে এভাবেই একের পর এক চাঁদা আদায় করতে দেখা গেছে।


অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রাম নগরীর সিটি গেট থেকে নিমতলা ছাড়া অন্য সব স্থানে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচলে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা না মেনে নগরীতে চলাচল করা গাড়ি থেকেই সবচেয়ে বেশি চাঁদা তোলা হয়। এছাড়া বেশিরভাগ গাড়ির সব ধরনের কাগজপত্র ঠিক থাকে না। এমনকি অনেক চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পর্যন্ত নেই। কারও কারও আবার লাইন্সেসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় মামলার ভয়ে বেশিরভাগ চালকই ট্রাফিক পুলিশকে চাঁদা দিচ্ছেন।

অলঙ্কার মোড়ে সাদা পোশাকে থাকা চাঁদা আদায়কারী ব্যক্তির নাম জসিম। তিনি বলেন, দিনের বেলায় নগরীতে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ঢোকার নিয়ম নেই। এতে ট্রাকের মালিক-চালকদের ক্ষতি হয়। তারা যেহেতু দিনে ট্রাক চালাচ্ছেন, তাই খুশি হয়ে কিছু টাকা দেন। ট্রাক থেকে টাকা তুলে আপনার লাভ কী প্রশ্ন শুনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন তিনি। বললেন, লাভ নেই ভাই। প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা তুলে দিই, অথচ আমাকে কোনো দিন দেয় ৫০০, কোনো দিন ৬০০ টাকা। এ বিষয়ে কোনো ধরনের কথা বলতে রাজি হননি সার্জেন্ট সাহেদ ইকবাল।

শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত নগরীর জিইসি মোড়, বারিক বিল্ডিং, সিটি গেট, নয়াবাজার, সিমেন্ট ক্রসিং, নতুন ব্রিজ এলাকা ঘুরে অভিন্ন দৃশ্য চোখে পড়েছে। ট্রাফিক পুলিশের হয়ে চাঁদা তোলা সাদা পোশাকের মানুষদের ‘টেন্ডল’ নামে চেনেন চালকরা। আবদুল আজিজ নামের একজন ট্রাকচালকের মতে, যারা পুলিশের পক্ষে টাকা তোলেন, তারাই টেন্ডল।

অনুসন্ধানে নেমে এ ধরনের বেশ কয়েকজন টেন্ডলের নাম পাওয়া গেছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি অবস্থান নিয়ে সক্রিয় থাকেন। এর মধ্যে রয়েছেন ২ নম্বর গেটে রহিম ও কামাল, অলঙ্কার মোড়ে জসিম ও আমীর, সিটি গেটে আনোয়ার, নয়াবাজারে সোহেল, সিমেন্ট ক্রসিংয়ে আফসার ও আকতার, বারিক বিল্ডিংয়ে শাহেদ ও সাহাবুদ্দিন, নতুন ব্রিজে রফিক ও হৃদয়, চাক্তাই চাসড়ার গুদাম এলাকায় সুমন ওরফে লম্বা সুমন, সল্টগোলা ক্রসিংয়ে জহির ও জাবেদ, জিইসি মোড়ে দুলাল ও পুলিশের ভাগ্নে নামে পরিচিত এক যুবক। জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীতে বন্দর ও উত্তর জোন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ। একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট নির্দিষ্ট একটি স্পটে এক সপ্তাহ দায়িত্ব পালন করেন। সপ্তাহের প্রতি রোববার নতুন স্পটে দায়িত্ব পান ট্রাফিক সার্জেন্টরা। ফলে কোনো কোনো টেন্ডলও নতুন জায়গায় চাঁদা তোলার জন্য চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, ঘুরে ফিরে ২০ থেকে ২৫ ব্যক্তিকে ভাড়া করে ট্রাফিক পুলিশের কিছু সার্জেন্ট চাঁদা আদায় করছে। উত্তর জোনের ট্রাফিক সার্জেন্ট জামাল হোসেন মীর যেখানেই যান, তার সঙ্গে আমির ও কামাল নামের দুইজন টেন্ডল থাকেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অর্থ, প্রশাসন ও ট্রাফিক) এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, দালাল নিয়োগ দিয়ে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।…..শ্রীঘ্রই আমরা আরো অপরাধভিত্তিক সংবাদ নিয়ে আসছি। চোখ রাখুন thenewse.com


এ ক্যটাগরির আরো খবর..