কোহালি-অনুষ্কার সঙ্গে দারুণ মিল সুয়ারেস-সোফিয়ার প্রেমকাহিনি

মাঠে কোহালির সেঞ্চুরি আর ভিআইপি স্ট্যান্ডে স্ত্রী অনুষ্কার উপস্থিতি। থার্ডম্যান দিয়ে বাউন্ডারি মেরে সেঞ্চুরি হওয়া মাত্র হেলমেট খুলে দু’হাত ডানার মতো মেলে প্রথমে ড্রেসিংরুমের দিকে ব্যাট তুললেন ভারত অধিনায়ক। তার পরেই উল্টো দিকের গ্যালারির দিকে ঘুরে ব্যাট বাড়িয়ে সেই উড়ন্ত চুম্বন। ক্রিকেট মাঠে প্রকাশ্যে স্ত্রীর প্রতি ভালবাসাকে এমন আবেগপূর্ণ ভঙ্গিতে স্বীকৃতি দিতে দেখা যায় না। ফুটবল মাঠে দেখা গিয়েছে। লুইস সুয়ারেস প্রত্যেকটি গোল করে বিয়ের আংটিতে চুম্বন করেন স্ত্রী সোফিয়ার অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য। কোহালি-অনুষ্কার কাহিনির সঙ্গে দারুণ মিলও রয়েছে সুয়ারেস-সোফিয়ার প্রেমকাহিনির।

কোহালির মতোই সুয়ারেস পথভ্রষ্ট হয়ে পড়তে পারতেন। উরুগুয়েতে মাথা দিয়ে ঢুসো মেরে সাসপেন্ড হওয়ার সময়ে সোফিয়ার সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। সেই সান্নিধ্যই পুরোপুরি পাল্টে দেয় আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারকে। কোহালিও জীবনের রাস্তায় অনুষ্কাকে পাওয়ার পরে এলোমেলো রাস্তায় ড্রাইভিং বন্ধ করে মসৃণ হাইওয়েতে ওঠেন। ভারত অধিনায়ক নিজেই এক বার এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, ‘‘অনুষ্কা আমার জীবনকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। আমি কী ছিলাম আর এখন কী হয়েছি, সেটা ফিরে দেখলেই আরও ভাল বুঝতে পারি।’’

ক্রিকেট মাঠে দু’জনের প্রেমে কোথাও যেন ‘প্যায়ার করনেওয়ালে কভি ডরতে নহী’ গান বাজতে থাকে। এই ইংল্যান্ডেই চার বছর আগে অনুষ্কাকে নিয়ে এসেছিলেন কোহালি। চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছিলেন সেই সফরে। ভারতীয় জনতা এবং সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রবল ভাবে আক্রান্ত হন অনুষ্কা। সোমবার তাঁর স্বামী সেঞ্চুরি করামাত্র অনুষ্কাকে উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিতে দেখা গেল। চোখেমুখে চাপা অভিমান আর আবেগ ঠিকরে বেরোচ্ছে। মাঠ থেকে কোহালি ফ্লাইং কিস দিচ্ছেন। গ্যালারি থেকে স্ত্রী ‘রিটার্ন গিফ্ট’ ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ক্রিকেট আর ‘রব নে বনা দি জোড়ি’ যেন মিলেমিশে একাকার।

নিশ্চিত থাকা যায় অনুষ্কাকে তিনিই বলেছেন, এ বারের সফরে থাকতে। ঠিক যেমন অস্ট্রেলিয়ায় চার টেস্টে চার সেঞ্চুরির সফরের আগে তাঁকে বলেছিলেন, ‘‘ইংল্যান্ডে ওরা আমাদের আক্রমণ করেছিল। অস্ট্রেলিয়ায় চলো আমার সঙ্গে। একটার পর একটা সেঞ্চুরি করব আর তোমার দিকে ফ্লাইং কিস ছুড়ে দেব।’’ কোহালির জেদ কী জিনিস, সেই সফরেই বোঝা গিয়েছিল। এ বারে রুটের ইংল্যান্ডকেও প্রেমের জয়গানের মুখে খেসারত দিতে হচ্ছে।

ইংল্যান্ড কোহালির কাছে ‘ফাইনাল ফ্রন্টিয়ার’। বিশ্বের সর্বত্র তিনি রান করে দেখিয়েছেন। একমাত্র এখানেই সুইং এবং সিমের বিরুদ্ধে তাঁর দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে গিয়েছিল। সেটাকে দূর করার সংকল্প নিয়ে এসে কী করলেন? না, গত বার তাঁকে সব চেয়ে বেশি বিব্রত করা জেমস অ্যান্ডারসনকে এ বার উইকেটই দেননি। এখনও পর্যন্ত অ্যান্ডারসনের বিরুদ্ধে ৩২৫ বল খেলে ১৫৫ রান করেছেন তিনি। এক বারও তাঁর বলে আউট না হয়ে।

৬৯ টেস্টে হয়ে গেল ২৩ সেঞ্চুরি। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে টেস্ট সেঞ্চুরির সংখ্যায় সামনে শুধু তিন জন। সচিন তেন্ডুলকর (৫১), রাহুল দ্রাবিড় (৩৬) এবং সুনীল গাওস্কর (৩৪)। কিন্তু কোহালি সবাইকে ছাপিয়ে যাচ্ছেন সেঞ্চুরি করার দ্রুততার হারে। এবং, অবিশ্বাস্য ‘কনভার্শন রেট’। এই নিয়ে শেষ ১৩বার হাফ সেঞ্চুরি পেরিয়ে ৯বার সেটাকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করলেন।

উৎকর্ষ, প্রভাব, ধারাবাহিকতা এবং পরিসংখ্যান— সব দিক থেকে মনে হচ্ছে এক নতুন মাস্টারের আলোর ছটা ছড়িয়ে পড়ছে ক্রিকেট পৃথিবীতে। দিলীপ দোশী বলছিলেন, ‘‘তুলনায় যেতে চাই না। কিন্তু এত বড় ম্যাচউইনার আর ক’জন এসেছে, তা সত্যিই ভেবে দেখার মতো। চাপের মুখে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অসাধারণ!’’

চার বছর আগের ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যান এবং প্রেমিক কোহালিকে নিদ্রাহীন রাত উপহার দিয়েছিল। এ বার দু’জনকেই হাসি ফিরিয়ে দিচ্ছে। ক্রিকেট মিশে যাচ্ছে জীবনের সঙ্গে!

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।