কে এই মেয়র পদপ্রার্থী গৌতম রায়? কেন তিনি এ পথে এলেন?

কে এই মেয়র পদপ্রার্থী গৌতম রায়? কেন তিনি এ পথে এলেন?

রাই কিশোরীঃ খুলনার চালনা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী গৌতম কুমার রায় ইসকনে দিক্ষিত নাম গৌর কৃষ্ণ অবতার দাস ব্রহ্মচারী। কে এই গৌর অবতার ব্রহ্মচারী? কেনই বা ধর্মচর্চার পাশাপাশি মেয়র হতে চাইলেন? বাংলাদেশে বাকি ইসকন পন্থীরা তো রাজনীতিতে আসে না তবে তিনি কেন এলেন?

গৌতম রায় বা গৌর কৃষ্ণ অবতার দাস ব্রহ্মচারীর জন্ম খুলনা জেলার দাকোপ থানার চালনা বন্দরে। তখন পৌরসভা হয়নি। বেশ কিছু বছর পর পৌরসভা হয়। অনার্স পড়ার জন্য জেলা শহর খুলনা এসে ইসকনের ভজন কীর্তন দেখে আকৃষ্ট হয়ে নিজের বাড়িতে পূজা অর্চনা শুরু করে। পরে ২০০৪ সালে নিজের সমস্ত সম্পত্তি ইসকনে লিখে দিয়ে চালনা শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির স্থাপন করেন। বাইরের কোন প্রকার আর্থিক সাহায্য ছাড়া সেই থেকে তিনি নিজ চেষ্টায় এই মন্দির পরিচালনা করে আসছেন।

হল্যান্ডের নাগরিক করুনাময়ী দেবী দাসী নামে এক মাতাজির হাত ধরে এই চালনা জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। ১ বছর পর তিনি দেশে ফিরে গেলে তার সাথে গৌর অবতারের কোন যোগাযোগ থাকে না। করুনাময়ী দেবী দাসী বিভিন্ন মাধ্যমে এই মন্দিরের জন্য সাহায্য বা অনুদান পাঠালেও সে সাহায্য কখনো গৌর অবতারের হাতে এসে পৌঁছায়নি। সম্পূর্ণ নিজ প্রচেষ্টায় এত বছর ধরে এই মন্দির পরিচালনা করে আসছেন তিনি। ইসকনের বিভিন্ন শাখার মত ছকে না থেকে বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করায় তারাও গৌর অবতারকে সাহায্য করে না।

চালনা জগন্নাথ মন্দিরে শুধু ভজন কীর্তন, পূজা অর্চনাই হয় না সেই সাথে এত বছর ধরে বিভিন্ন বয়সের প্রতিবন্দী, বৃদ্ধ, অসহায়দের অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, সেবা দিয়ে সুস্থ করা হয়। তার এই পথ চলায় সকল শ্রেণীর মানুষের দ্বারা বাঁধা, প্রতিকূলতা এসেছে বারবার। কিন্তু তিনি দমে যাওয়া মানুষ নন। তিনি একমাত্র জগন্নাথ কেই মান্য করেন। তাই তার ধারণা বা বিশ্বাস যদি জগন্নাথ চায় তার ক্ষতি বা বিপদ হোক তবে আমি সেটা সাদরে গ্রহণ করতে রাজি। আর যদি জগন্নাথ বাঁচিয়ে রাখে তাহলে কোন অপশক্তি ক্ষতি করতে পারবে না।

গৌর কৃষ্ণ অবতার দাস ব্রহ্মচারী এত বছর ধরে সনাতন ধর্ম প্রচারে চালনা-খুলনায় দ্বারে দ্বারে, রাস্তায় রাস্তায় গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মত হরিনাম বিলিয়ে এসেছে। সকলকে এক ছত্রছায়ায় এনেছে হরিনামের মধ্যদিয়ে।

গৌর কৃষ্ণ অবতার দাস ব্রহ্মচারী দ্যা নিউজকে বলেন, মানবসেবায় ব্রতী হয়ে বর্তমানে আমি মেয়র পদপ্রার্থী। মানব সেবার জন্য চালনার প্রথম মেয়র অচিন্ত বিশ্বাসকে আমরা নিজে প্রচার প্রচারণা, পরিশ্রম করে মেয়র বানাই। বিনিময়ে তিনি আমায় জুতা দিয়ে আঘাত করেন। আমি কিছুই বলিনি, ভেবেছি আমায় আঘাত করেও যদি মানুষের সেবা করে তবে আমার কোন কষ্ট নেই। কিন্তু এত বছর ধরে নিম্নশ্রেণীর মানুষের কোন উন্নয়ন হয়নি।

তিনি আরো বলেন, সনাতন ধর্ম হল সেবা ও ত্যাগের ধর্ম। ভগবান শ্রী কৃষ্ণ যেভাবে  সেবা করেছেন, মহাপ্রভু যেভাবে জীব সেবা করেছেন আমরা তার সৃষ্ট জীব হিসেবে তাদের দেখানো পথ অনুসরণ করে মানবমাত্রই সেবা করা উচিত। আমি সেই লক্ষে এই পথে অগ্রসর হয়েছি। কারণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারন মানুষের জন্য অনেক অনুদান দেয় সেগুলো সাধারন মানুষের কাছে পৌঁছায় না। আমি সন্যাসী। আমার কোন কামনা বাসনা নেই। যদি এলাকার মানুষ আমায় ভালবেসে নির্বাচিত করে তবে শুধু সরকারের অনুদানই নয় নিজের প্রাপ্য সন্মানীর টাকা দিয়েও ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সেবা করব।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।