কালীগঞ্জে রমরমাভাবে চলছে সুদের ব্যবসা নিঃস্ব থেকে অধিকতর নিঃস্ব হচ্ছে গভীর অসহায় মানুষ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সুদের ব্যবসা চলছে রমরমাভাবে। সমাজের ভদ্র মুখোশের আড়ালে কিছু ব্যক্তি স্থানীয় প্রশাসনের চোখের সামনে দেদারছে এসব সুদের ব্যবসা করলেও তারা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলে নিঃস্ব, অসহায়, গরীবসহ বিভিন্ন দোকানীরা এদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে সহায় সম্বল হারিয়ে পথের ভিখারী হচ্ছে। অনেক ব্যক্তি টাকা নিয়ে সময়মত পরিশোধ করতে না পারায় তাদের বিরুদ্ধে চেক ডিসঅনারের মামলা দিয়ে হয়রানী করছে সুদখোররা। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের সাথে সখ্যতা বজায় রাখায় এসব সুদখোরদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে সাহস পায়না।

কালীগঞ্জ পৌরসভা মেয়র বরাবর লিখিত এক অভিযোগে জানাগেছে, শহরের শিবনগরের সিদ্দিক আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর শেখ গুলশান মোড়ে হোটেলের ব্যবসা করে আসছিল। ব্যবসা পরিচালনার জন্য নগদ টাকার প্রয়োজনে মধুগঞ্জ বাজার ঢাকালে পাড়ার শাহাজান কবীরের কাছ থেকে কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধের শর্তে ৬০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন তিনি। টাকা গ্রহণের পূর্বে শাহাজান ওই ব্যক্তির নিকট থেকে দুই টি ব্ল্যাঙ্ক চেকে স্বাক্ষর করে নেয়। এরপর হোটেল মালিক জাহাঙ্গীর শেখ বিভিন্ন সময়ে শাহাজান কবীরকে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। সাংসারিক ও পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারনে ব্যবসায় মারাতœক ক্ষতি হওয়ায় বাকি ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে পারেনি।

টাকা দিতে দেরি হওয়ায় শাহাজান কবীর ওই ব্ল্যাঙ্ক চেকে ৪ লাখ টাকার ফিগার বসিয়ে ইসলামী ব্যাংকের  সঞ্চয়ী হিসাব নং ১২৮৬৩ একাউন্টে জমা দেয়। ব্যাংক একাউন্টে টাকা না থাকায় কর্তৃপক্ষ চেক ডিসঅনার করে। এরপর সে ডিসঅনারের কপি নিয়ে গত ২৪/০৪/২০১৬ ইং তারিখে আদালতে  জাহাঙ্গীর শেখ কে আসামি করে মামলা দায়ের করে।

এ ঘটনার পূর্বে জাহাঙ্গীর শেখ গত ১৯/০৪/২০১৬ ইং তারিখে কালীগঞ্জ পৌর মেয়র আলহাজ্ব মকছেদ আলীর বরারব সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে এক আবেদন করেন। মেয়র উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পর শাহাজান কবীর পৌর সভায় হাজির হয়নি। পরবর্তীতে উভয় পক্ষকে পুনরায় হাজির করে বিষয়টির সুরাহা করার করা হবে বলে মেয়র জানিয়ে দেন। কিন্তু তার পূর্বেই শাহাজান কবীর জাহাঙ্গীর শেখের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, শাহাজান কবীর সিয়াম সমবায় সমিতি নামের একটি প্রতিষ্ঠান খুলে দীর্ঘদিন রমরমা সুদের কারবার করছেন। তার কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে শিখা নামের এক মহিলাকে তিনি মামলা দিয়ে হয়রানী করেছেন।

কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফ ম-ল, শাহাজান কবীরের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেন। চার মাসে তিনি মূল টাকা পরিশোধ করেন। আর ৪ মাসে তিনি ৫০ হাজারে সুদ দিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। একই ভাবে ফয়লা গ্রামের মাহাবুব কে ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়। তার কাছ থেকে প্রতিদিন ১শ টাকা  করে আদায় করা হয়। একইভাবে অনেক ব্যক্তিকে লাখ লাখ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা সুদ আদায় করছেন তিনি। টাকা নেয়া একাধিক ব্যক্তি জানান, টাকা নেয়ার আগে শাহাজান কবীর ব্ল্যাঙ্ক চেকে স্বাক্ষর করে নেন। তা না হলে টাকা দেন না।

ইসরাইল হোসেন নামের এক পত্রিকা পরিবেশক জানান, তার কাছ থেকে শাহাজান কবীর দীর্ঘদিন ধরে পত্রিকা নিয়ে আসছে। অথচ ১ হাজার টাকা পত্রিকার বিল বাকি হওয়ায় এবং তা চাওয়ার কারনে তাকে মারপিট করতে উদ্যত হয়।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শাহাজান কবীবের মোবাইল ফোনে (০১৭২৬-৪২৫৪৪৫) একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার আইনাল হক জানান, তাদের এখান থেকে সুদে কারবার করার জন্য কোন রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয় না। আর সিয়াম নামে কোন প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন তার দপ্তর থেকে দেয়া হয়নি। সমবায় থেকে দেয়া হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, সুদে ব্যবসা করে মানুষকে নিঃস্ব করে দেয়া আইনগতভাবে দ-নীয় অপরাধ। এ ব্যাপারে যদি কেউ অভিযোগ দেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।