বাংলাদেশের পূর্বের প্রতিটি নির্বাচনের মতো এবারও সহিংস হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। পিরোজপুর-২ আসনভূক্ত নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলায় নৌকা মার্কার সমর্থকদের ওপর বিভিন্ন গ্রামে নির্বাচনে বিজয়ী স্বতন্ত্র ঈগল মার্কার সমর্থকরা হামলা ও মারধর করছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, পিরোজপুর উপজেলা সদর থেকে দূরবর্তী গ্রাম জলাবাড়ী ইউনিয়নের মাদ্রা, দৈহারী ইউনিয়নের চিলতলা ও ছৈলাবুনিয়া গ্রামে কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া বলদিয়া, আটঘর-কুড়িয়ানা, সোহাগদল ও সারেঙ্গকাঠি ইউনিয়নেও হামলা ও নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে।
বলদিয়া ইউনিয়নের জিরবাড়ীর মিঠু, কাটাপিটানিয়ার সমীরন বেপারী ঈগল মার্কার সমর্থকদের হামলায় আহত হয়েছেন। সারেঙ্গকাঠি ইউনিয়নের সুকাদিত্য গ্রামের পলাশ সুতারের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সকালে মাদ্রা গ্রামে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি, সাবেক ইউপি সদস্য ও নৌকা মার্কার কেন্দ্র আহ্বায়ক মৃত্যুঞ্জয় হাওলাদারকে ঈগল মার্কার সমর্থক একদল সন্ত্রাসী পিটিয়ে মাথা ও বুকে জখম সৃষ্টি করেছে। তাকে পার্শ্ববর্তী জেলা ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
সোমবার দুপুরে কুড়িয়ানা বাজারে নৌকা সমর্থক রাজীব সরকারকে মারধর করা হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিঠুনের নির্দেশে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নৌকার কর্মী লিটন হালদার ও আওয়ামী লীগ নেতা প্রভাষক মিলন পাইককে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে লিটন জানিয়েছেন।
দৈহারী ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামে স্থানীয় যুবকদের একটি ক্লাবে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করেছে। এ সময় ক্লাবের মধ্যে থাকা আসবাবপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায় এবং পাশের খালে কিছু আসবাব ফেলে দেয়। পুলিশকে খবর দেয়া হলে তারা এসে ঘটনার ছবি তুলে নিয়ে গেছে। দৈহারী ইউনিয়নে এ ঘটনার পর ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানান।
সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের এনায়েতপুরে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় প্রতিপক্ষের বেশ কিছু বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক খামার গ্রামের ইউপি সদস্য পঙ্কজ চন্দ্রকে (৪৫) মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। রোববার দিনভর ভোট শেষে রাতে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর এসব হামলার ঘটনায় এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও খামার গ্রামের বাসিন্দা বিমল দাস বাদী হয়ে একটি মামলাও করেছেন।
মামলার বাদী বিমল দাস অভিযোগ করে বলেন, “রাত ১১টার দিকে বিজয় মিছিল থেকে নৌকার সমর্থকরা আমার বাড়িতে হামলা চালায়। ভয়ে আমরা বাড়ির লোকজন পিছন দিক দিয়ে পালিয়ে যাই। ওই সময় হামলাকারীরা বাড়ির ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর করে এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। একপর্যায়ে তারা ঘরের ভিতর ঢুকে আলমিরাতে থাকা নগদ আড়াই লাখ টাকা ও সাড়ে ৬ ভরি সোনার অলঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় এবং বাড়ির মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করেছে।”
এদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও গ্রেপ্তার দাবি করেন।
নৌকার পক্ষে নির্বাচনী কাজে অংশ নেওয়ায় রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় ৩ জনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার উপজেলার কলমপতি ইউনিয়নের দুর্গম বড় আমছড়ি এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়। অপহরণের শিকার ব্যক্তিরা হলেন- চাখিয়াই মং মারমা (২২), বাদ মারমা (৩৩) ও চিংথোয়াইপ্রু মারমা (৩৮)।
উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ৫ জানুয়ারি রাত ২টার দিকে কক্সবাজার রামুতে চেরাংঘাটা রাখাইন সম্প্রদায়ের উসাইসেন (বড় ক্যাং) বৌদ্ধ বিহারে আগুন দেয়া হলে বিহারের বেশ কিছু অংশ পুড়ে যায়। এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের জরুরি হস্তক্ষেপে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পায় প্রায় দেড়শ বছরের প্রাচীন এ বৌদ্ধ বিহারটি।





