অভিযোগ উঠেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে জ্বালানি অস্ত্র ব্যবহার করতে যাচ্ছে রাশিয়া। ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন বলেছেন, “রাশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে।” এই বিষয়ে একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর জ্বালানি মন্ত্রীরা, আজ মঙ্গলবার ব্রাসেলস-এ মিলিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি গ্যাজপ্রম জানিয়েছে, প্রধান পাইপলাইনে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে গ্যাস সরবরাহ আবারও কমিয়ে দেয়া হবে।
জার্মানি বলছে, প্রযুক্তিগত এরকম কিছুই আসলে নেই। রাশিয়া গ্যাস সরবরাহ আরও কমিয়ে দিলে, আসছে শীতের আগে ইউরোপের দেশগুলোর পক্ষে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুদ করা কঠিন হয়ে পড়বে। শীতকালে ইউরোপের দেশগুলোতে গ্যাসের ব্যবহার অনেক বেশি থাকে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন মোট চাহিদার ৪০ শতাংশ প্রকৃতিক গ্যাস ও ৩০ শতাংশ খনিজ তেল আমদানি করে থাকে রাশিয়া থেকে। ইউরোপের অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউস খ্যাত পৃথিবীর অন্যতম প্রধান শিল্পোন্নত দেশ জার্মানি, জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। ইউরোপের অপর প্রধান শিল্পোন্নত দেশ ইতালি, জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য রাশিয়ার মুখাপেক্ষী। হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড প্রভৃতি ইউরোপীয় দেশ, রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যতীত বলতে গেলে প্রায় অচল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ফ্রান্স, রাশিয়ার বিকল্প হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করার পরিকল্পনা করছে। তবে সেটা সময় সাপেক্ষ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করতে পারবে কিনা, সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। সুতরাং রাশিয়ার সম্ভাব্য জ্বালানি অস্ত্র প্রয়োগের ফলে – ইউরোপীয় ইউনিয়নে যদি অর্থনৈতিক মন্দা নেমে আসে, তাহলে তা বিশ্ব অর্থনীতিকে যথেষ্ট প্রভাবিত করবে। সেক্ষেত্রে ইউরোপীয় অর্থনীতির উপর নির্ভরশীল উন্নয়নশীল দেশগুলো, গভীর সংকটে নিপতিত হতে পারে।


