আমেরিকান একাধিপত্যের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিউনের সাথে ভারতের মুক্ত বানিজ্য চুক্তি

আমেরিকান একাধিপত্যের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিউনের সাথে ভারতের মুক্ত বানিজ্য চুক্তি
আমেরিকান একাধিপত্যের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিউনের সাথে ভারতের ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট এক নুতন যুগের সূচনা করলো।শুল্কের বেড়াজালে আমেরিকা যেভাবে সারা পৃথিবীকে নিজেদের গোলাম বানানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিলো এই চুক্তি অনেক দেশকে সাহস সঞ্চয়ে সাহায্য করবে।
আমেরিকা নিজেকে অপরাজেয় ভেবে প্রাচুর্যের অহংকারে যেভাবে একটার পর একটা দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে তাতে পৃথিবীর অনেক দেশ পরাজয় স্বীকার করে আমেরিকার বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। ব্যতিক্রম ছিলো ভারত। ভারত আমেরিকার রক্তচক্ষুকে পরোয়া করেনি। ভারত প্রত্যক্ষ ভাবে আমেরিকার সাথে দ্বন্ধে লিপ্ত হয়নি কিন্তু পর্দার অন্তরালে নিজেকে প্রস্তুত করে যাচ্ছিলো। যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ ইউরোপীয় ইউনিউনের সাথে ভারতের এই ঐতিহাসিক চুক্তি।
আমেরিকা ইউরোপীয় ইউনিউনের ২৭টি দেশকে নিজেদের জমিদারির পেয়াদা ভেবেছিল কিন্তু ভারত তাদেরকে যথাযোগ্য মর্যাদায় বন্ধু বানিয়ে নিয়েছে। এই চুক্তি সারা পৃথিবীর ২৫% জিডিপি নিয়ন্ত্রণ করবে উপকৃত হবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষ।
এই চুক্তির ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের ৯৬.৭% ট্যারিফ খুলে দেবে আর ভারত ৯২.১% ছাড় দেবে। ফলে ভারত ইউরোপীয় ইউনিউনের ২৭টি দেশের বাজারে পাবে প্রবেশাধিকার। ভারতের ৯৯% পন্য কম শুল্কে বাজারজাতের ফলে ভারতের অর্থনৈতিক গতি বাড়বে শিল্প রফতানি ও কর্মসংস্থানে ব্যপক প্রভাব পড়বে। এটি শুধু একটি বানিজ্যিক চুক্তি নয় এটা ভারতের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থানকে বদলে দেবে।
ভারতের পরবর্তী টার্গেট কানাডা। যে কানাডাকে ট্রাম্প আমেরিকার ৫১তম রাজ্য বানানোর হুমকি দিয়েছিল। কানাডার সাথে ভারতের সম্পর্ক ভালো ছিলো না। কিন্তু কানাডায় সরকার পরিবর্তনের পর নুতন সরকার ভারতের সাথে সম্পর্কোন্নয়নে আগ্রহ দেখিয়েছে।
ভারত ইতিমধ্যে আমেরিকান ডালের উপর ৩০% শুল্ক আরোপ করে আমেরিকার উপর মধুর প্রতিশোধ নিয়ে ডাল রফতানির সুযোগটি কানাডার হাতে তুলে দিয়েছে। এখন আমেরিকার প্রতিবেশী কানাডিয়ান ডাল ভারতে রফতানি হবে আর আমেরিকার কৃষকরা শুধু চেয়েচেয়ে দেখবে। এটাই ভারতের কুটনৈতিক সাফল্য ।
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দাবি এবং কানাডা আমেরিকান ৫১তম রাজ্যের অন্তর্ভুক্তির হুশিয়ারির পর কানাডা-মার্কিন সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। কানাডা চীনের সঙ্গে শুল্ক বাধা হ্রাস করতে চেয়েছে। এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে কানাডা যদি চীনের সাথে চুক্তি করে তাহলে কানাডিয়ান পন্যের উপর ১০০% শুল্ক আরোপ করা হবে।
ভারত এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কানাডার সাথে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক পার্টনারশিপ আলোচনা শুরু করতে চলেছে।২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে পন্য বানিজ্য হয়েছে ৯.৭ বিলিয়ন ডলার। এই বানিজ্য আরও বৃদ্ধির লক্ষে জ্বালানি খাতকে বেছে নেয়া হয়েছে। আমেরিকার সঙ্গে কানাডার বানিজ্যিক চাপানোতরের মধ্যে কানাডা রফতানি বাজারকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলার জন্য ভারতের সাথে ব্যবসায়িক চুক্তি করতে চায়। এই চুক্তি মুক্ত বাজার অর্থনীতির নিয়মে যেভাবে ইউরোপীয় ইউনিউনের সাথে হয়েছে কানাডার সাথেও সে ধরনের চুক্তি হতে পারে। ইতিমধ্যে ইংল্যান্ডের সাথে ভারতের ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট চুক্তি হয়ে গিয়েছে।
আগামীর ভারত অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যুগসন্ধিক্ষনে দাড়িয়ে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।