আনোয়ারার ইয়াবা গুরু সম্রাট নূর সৈয়দ গোয়েন্দার জালে আটক

পুলিশের জালে আটকা পড়েছে আনোয়ারার ইয়াবা গুরু খ্যাত নুর সৈয়দ (৪৮)। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সোমবার রাতে তাকে র পর আনোয়ারা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তার বিরুদ্ধে ইয়াবা পাচারের ঘটনায় আনোয়ারায় ৪ টি ও কোস্টগার্ডের উপর হামলায় আরো একটিসহ মোট ৫টি মামলা রয়েছে।

আনোযারা থানার মামলায় নুর সেয়দকে শ্যেন অ্যারেস্ট দেখিয়ে মঙ্গলবার বিকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাকে রিমান্ডে এনে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, নুর সৈয়দ উপজেলার পরুয়া পাড়া গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে। তার আরেক ভাই নুরুচ্ছাফা এলাকায় তার পক্ষে এই ব্যবসা দেখাশোনা করত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাড়ি আনোয়ারা হলেও সে মূলত চট্টগ্রাম শহরেই থাকত। নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় নির্মাণাধীন বাড়ি থেকেই তাকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

এছাড়া অল্প সময়ে হালিশহরে বাড়িসহ শহর ও আনোয়ারায় জমি কিনে বিপুল ধনসম্পদের মালিক হন সৈয়দ। স্থানীয় সূত্র জানায়, ইয়াবা ব্যবসায়ী নুর সৈয়দের একই অঙ্গে বহুরূপ। সে এক সময় ছিল মাছ ধরার নৌকার জেলে। সেটা ছেড়ে দিয়ে পরে পুলিশ ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সোর্সের কাজ করে কিছুদিন। সবকিছু ছেড়ে দিয়ে পরে বনে যান ইয়াবা কারবারি। ইয়াবা সিন্ডিকেটের কাছে সে ইয়াবা গুরু হিসাবেই বেশি পরিচিত।

মায়ানমারের ইয়াবা সরবরাহকারীদের সঙ্গে দরদাম, লেনদেন ও বোঝাপড়ার কাজ সৈয়দই করত। স্থানীয় পাইকারদের সঙ্গে যোগসূত্র
তৈরি করে দেয়ার বিনিময়ে সে পেত কমিশন। আর তাতে রাতারাতি বিশাল সম্পদের মালিক বনে যান। বোটের মাঝি থাকাকালীন সময়ে মিযানমারের আশপাশের এলাকায় মাছ ধরার সুবাধে সেখানকার অপরাধী চক্রের সাথে তার সম্পর্ক তৈরি হয়। আর সেই সুযোগটিই সে ব্যবহার করে ইয়াবা ব্যবসায়। ইয়াবা ব্যবসায় জড়ানোর পর সে এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠে ২০১৬ সালে তার বিরুদ্ধে কোস্টগার্ডের উপর হামরার মামলাও হয়। এছাড়া ইয়াবা পাচারের মামলা হয় আরো ৪টি।

খোদ পুলিশ বলছে, আনোয়ারায় সাম্প্রতিক সময়ে খালাস হওয়া বড় ইয়াবা চালানগুলোর সঙ্গে সৈয়দ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য দিলেও রিমান্ডে এনে গডফাদারদের তথ্য উদঘাটন করা হবে।

আনোয়ারা থানার ওসি দুলাল মাহমুদ জানান, গ্রেফতার হওয়া ইয়াবা ব্যবসায়ী সৈয়দ মারাত্মক ধূর্ত প্রকৃতির অপরাধী। আইনশৃংখলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সে একেক সময একেক রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করত। আনোযারার বড় বড় সব ইয়াবা চালানের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিযেছে। তদন্তের স্বার্থে তা এখনই প্রকাশ করতে রাজী হননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।