আজ বিশ্ব অ্যানাস্থেসিয়া দিবস

আজ বিশ্ব অ্যানাস্থেসিয়া দিবস

আজ বিশ্ব অ্যানাস্থেসিয়া দিবস। আজকের দিনটিকে ইথার ডেও বলা হয়। ১৮৪৬ সালের ১৬ অক্টোবর ডায়েটিল ইথার অ্যানাস্থেসিয়ার প্রথম সফল প্রদর্শনের স্মরণে বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয়। যে কোনো অপারেশনের আগে রোগীকে অচেতন করতেই অ্যানাস্থেসিয়া প্রয়োগ করা হয়।

এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে যা হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল এবং ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে একটি অপারেটিং থিয়েটারে (বর্তমানে ইথার গম্বুজ হিসাবে পরিচিত) অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর ফলে রোগীদের অপারেশনের সময় ব্যথা ব্যতীত অস্ত্রোপচার করার সুবিধা দেওয়া সম্ভব হয়েছিল।

১৯০৩ সাল থেকে এই তারিখটি স্মরণে রাখতে বিশেষ অনুষ্ঠানগুলি পালন করা হয়।  অ্যানাস্থেসিওলজিস্টদের ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ সোসাইটিস অফ অ্যানাস্থেসিওলজিস্টস প্রতিবছর বিশ্ব অ্যানাস্থেসিয়া দিবস উদ্‌যাপন করে। এখন ১৩৪ টিরও বেশি সোসাইটি অংশ নেয় যা দেড় শতাধিক দেশের অ্যানেস্থেসিওলজিস্টদের প্রতিনিধিত্ব করে।

অপারেশনের আগে রোগীর শারীরিক সুস্থতা যাচাই করা, অপারেশন চলাকালে রোগীকে ব্যথামুক্ত রাখা ও সার্বক্ষণিক মনিটরিং এবং অপারেশনের পরও রোগীকে ব্যথামুক্ত রাখার কাজটি করে থাকেন অ্যানাস্থেসিওলজিস্ট। মুমূর্ষু রোগীর ইনটেনসিভ কেয়ার, জটিল ব্যথার চিকিৎসা, বিভিন্ন রোগীর পেলিয়েটিভ কেয়ার সেবা প্রদানসহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন অ্যানাস্থেসিওলজিস্টরা।

আমাদের দেশে অ্যানাস্থেসিয়া চিকিৎসকের অভাবে অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে অপারেশন হচ্ছে না। অথচ সেখানে অপারেশন করার জন্য সার্জন, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও যন্ত্রপাতি সবই রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে অ্যানাস্থেসিয়া বিষয়ে উন্নতি হওয়ার কারণেই আজ জটিল সার্জারিসহ কিডনি, লিভার ও হার্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ নিরাপদভাবে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে।

অস্ত্রোপচারের রোগীদের মধ্যে শতকরা ৯০ জনই প্রশ্ন করে থাকেন- অপারেশনের সময় ব্যথা পাবেন কিনা? শতকরা ৮০ জন রোগী প্রশ্ন করেন, অস্ত্রোপচারের পর তার জ্ঞান কতক্ষণ পর ফিরবে? এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেন একজন অ্যানাস্থেসিওলজিস্ট।

অ্যানাস্থেসিয়া তিনটি জায়গায় খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি হলো অপারেশনের আগে, যেটাকে বলা হয় প্রি-অপারেটিভ চেকআপ। দ্বিতীয়টি হলো অপারেশন চলাকালে এবং তৃতীয়টি হলো অপারেশনের পর।

আগে অজ্ঞান করলে পরের দিন গিয়ে জ্ঞান ফিরত। আর বর্তমানে অপারেশন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্ঞান ফিরে। বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞান যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে অ্যানাস্থেসিওলজিস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা রাখতে হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।