আজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটির কাছে নাম দেয়ার সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি বিএনপি। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে। এ জন্য আজ রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নাম দেয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। দলীয় ফোরামে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। রাষ্ট্্রপতি গঠিত সার্চ কমিটি গতকাল শনিবার রাষ্ট্রপতির সাথে আলোচনায় অংশ নেয়া প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে পাঁচটি করে নাম চেয়েছে। আগামী মঙ্গলবার বেলা ১১টার মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বরাবর নামগুলো জমা দিতে হবে।

২০১২ সালেও সার্চ কমিটি একইভাবে রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে নাম আহ্বান করেছিল। তৎকালীন রাষ্ট্রপতির সাথে আলোচনায় অংশ নিলেও নামের তালিকা দেয়নি বিএনপি। আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি দল নতুন কমিশনের জন্য তাদের পছন্দের ব্যক্তির নাম জমা দিয়েছিল।

এবারের সার্চ কমিটি নিয়ে বিএনপি ইতোমধ্যে তাদের হতাশা ব্যক্ত করেছে। ছয় সদস্যের সার্চ কমিটির মধ্যে পাঁচজনের বিষয়েই আপত্তি তুলেছে তারা। এর মধ্যে কয়েকজনকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকালও বলেছেন, সার্চ কমিটি কী করবে সে সম্পর্কে তাদের ধারণা প্রায় স্পষ্ট। এ কমিটি দলীয় সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে পারবে কি না সংশয় রয়েছে।

এ অবস্থায় সার্চ কমিটির কাছে সম্ভাব্য নির্বাচন কমিশনার হতে পারেন, এমন ব্যক্তিদের তালিকা দলটি দেবে কি না তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে দুই ধরনের বক্তব্য আছে। নাম দেয়ার পক্ষে থাকা নেতাদের মত হচ্ছে, নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে বিএনপি শুরু থেকেই ইতিবাচক পদক্ষেপ রেখে চলেছে। খালেদা জিয়া ইসি গঠনে ১৩ দফা নির্দেশনা তুলে ধরেছেন। এরপর রাষ্ট্রপতির সাথে তারা আলোচনায় অংশ নিয়েছে। যদিও কোনো দাবি মানা হয়নি, তার পরও শেষ দেখার জন্য ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে সার্চ কমিটিতে নাম দেয়া উচিত। কারণ নাম দেয়ার পরও বিএনপির দেয়া তালিকা থেকে কাউকে না রাখলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ নিয়ে যেমন কথা বলা যাবে, তেমনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও বলার সুযোগ পাবে না যে বিএনপি নাম দেয়নি বলেই তাদের কেউ ইসিতে নেই।

আর নাম দেয়ার বিপক্ষে থাকা নেতাদের মত হচ্ছে- যে ১৩ দফা সুপারিশ বিএনপি রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছিল, সার্চ কমিটি গঠনে তার কোনোটিই মানা হয়নি। এটি নিয়ে দল ইতোমধ্যে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। আর দলীয় লোকদের দিয়ে করা সার্চ কমিটি বিএনপির কথা রাখবে না, সেটিই স্বাভাবিক। সার্চ কমিটির নিজেদের মতো করে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো ক্ষমতাও নেই। তাই ২০১২ সালের মতো এবারো সার্চ কমিটিতে নাম দেয়ার কোনো অর্থ নেই।

জানা গেছে, দুই ধরনের মত থাকায় দলীয় ফোরামে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া। এ জন্য আজ রোববার রাত ৯টায় গুলশান কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার। বৈঠকে দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া এ নিয়ে ২০ দলীয় জোট নেতাদের সাথেও আলোচনা করতে পারেন তিনি। সার্চ কমিটিতে নাম দেয়ার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ ব্যাপারে আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাইনি। দলীয় নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি নিয়ে অনুমাননির্ভর কোনো কথা বলা যাবে না। বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তবে সার্চ কমিটি ১২ জন বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি কোনো কোনো নেতা ইতিবাচক বলেছেন। কেউ কেউ অবশ্য বলেছেন, এটিও ‘আইওয়াশ’। মতবিনিময়ে যে ধরনের সুপারিশ উঠে আসবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার উল্টো প্রতিফলন ঘটবে। ২০১২ সালেও তেমনটি হয়েছিল।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।