অভিবাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

অভিবাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, অভিবাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের সরকার বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে বছরে গড়ে ১ হাজার কর্মীকে বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়।

এজন্য সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ, এনজিও, সুশীলসমাজসহ সব অংশীজনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে সেগুলো সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে অতিক্রম করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী আজ রাজধানীর আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস-২০২১ উপলক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এতে সভাপতিত্ব করেন।

প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য দক্ষ জনশক্তির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি আরো বলেন, যথাযথ প্রশিক্ষণ পেলে আমাদের অভিবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে। তিনি বলেন, নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক, নৈতিক ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, আমাদের অভিবাসী কর্মীরা দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করছেন। অবদান রাখছেন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে তারা দেশের সুনাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিচ্ছেন। রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়ন ও জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের অভিবাসী কর্মীরা বিশেষ অবদান রাখছেন। তিনি আরো বলেন, বিগত কয়েক মাসে বিদেশে কর্মী গমন বৃদ্ধি পেয়েছে। কোভিডের কারণে অনেকে ফেরত এসেছিল। তারাও চলে গেছে, এবছরও ৯ থেকে সাড়ে ৯ লাখ মানুষ পাঠানো যাবে। তবে এখানেই শেষ নয়, আমরা যদি নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করি টার্গেটও ফিলাপ হবে এবং রেমিট্যান্সের যে ধীর গতি আছে সেটাও কেটে যাবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোঃ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন। আরো বক্তব্য রাখেন আইএলও টুমো পটেনিন, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এর মহাপরিচালক মোঃ হামিদুর রহমান, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক মোঃ শহীদুল আলম এনডিসি, বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ বিল্লাল হোসেন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ জাহিদুল হক এবং এন আর বি সি আই পি এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ মাহতাবুর রহমান প্রমুখ।

এরপর এন আর বি সি আই পি ২০১৯ এর জন্য মনোনীত ৫৭ জন প্রবাসী বাংলাদেশিকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা এবং প্রবাসী কর্মীদের সন্তানদের বৃত্তি প্রদান করা হয়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।