ফেসবুকে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মুহাম্মদকে নিয়ে কথিত কটূক্তি করার গুজব রটিয়ে ভিক্টিম যুবককে নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে কালো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করে বিনা বিচারে প্রায় দুই বছর কারাবন্দী রনির মুক্তির দাবিতে মা-বাবার অনশন।
আজ শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কলেজছাত্র রনি চন্দ্র মনি দাসের মুক্তির দাবিতে সকাল থেকে অনশন ধর্মঘট করছেন বাবা-মাসহ এলাকার স্থানীয় লোকজন।
অনশনরত রনির পিতা অজিত মনিদাস আজ রাতে বলেন, আমরা দরিদ্র পরিবার, আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে রেখেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর হোসেন। আমার নির্দোষ ছেলের মুক্তি চাই।
রনির মা অনুকা রানি কাঁদতে কাঁদতে দাবি করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও একজন মা। একজন মা এই বুঝতে পারে সন্তানের বেদনা। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার ছেলেকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার আকুল আবেদন জানাই।
জানা গেছে, রনি নামের ওই যুবক ৩ মে ২০২০ রবিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত আইডিতে হযরত মুহাম্মদকে নিয়ে কটূক্তি করে একটি পোষ্ট দিয়েছে বলে গুজব ছড়ানো হয়। একই পোস্টে সঞ্জয় সরকার নামে আরেক হিন্দু যুবক আপত্তিকর মন্তব্য করেছে বলে তাকেও টার্গেট করা হয়। এরপর বিষয়টি সুপরিকল্পিতভাবে স্থানীয় ধর্মান্ধদের মধ্যে ছড়ানো হয়। তৌহিদী জনতা এবং স্থানীয় মুসুল্লীর ব্যানারে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীটি একত্রিত হয়ে রনি ও সঞ্জয়কে মারধর ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ‘তৌহিদী জনতা’ এবং ‘উত্তেজিত মুসুল্লী’দের শান্ত করতে রনিকে হয়রানিমূলক গ্রেফতার করে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর হোসেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে কারাগারেই আছেন রনি।
এভাবে কথিত ফেসবুক পোস্টের অযুহাতে অসংখ্য হিন্দু যুবক যুবতীকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে বিনাবিচারে কারাগারে কাটাতে হচ্ছে বছরের পর বছর।




