মোঃ মাসুদুর রহমান শেখ বেনাপোলঃ করোনার সংক্রমণ রোধে সরকার দুই দেশের মধ্যে স্থলপথে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত ১৪ দিন বন্ধ ঘোষণা করলেও বিশেষ ব্যবস্থায় দুতাবাসের ছাত্র পত্র নিয়ে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা।
সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ভারতে আটকে পড়া ৪৪ জন বাংলাদেশী বেনাপোল স্থলপথে দেশে ফিরেছেন । বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছেন ১৪ জন ভারতীয় যাত্রী। জানা যায়, ভারতে করোনার ভেরিয়্যান্ট সংক্রমণ রোধে বাংলাদেশ সরকার গত ২৬ এপ্রিল থেকে আগামী ০৮ মে পর্যন্ত স্থলপথে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত বন্ধ ঘোষণা করে। তবে নিষেধাজ্ঞা পত্রে উল্লেখ্য থাকে বাংলাদেশি দূতাবাসের ছাড় পত্র থাকলে তাদের আসা যাওয়ার সুযোগ থাকবে। সোমবার সকাল থেকে দিনভর কোন যাত্রী দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করতে না পারলেও হঠাৎ এদিন সন্ধ্যায় ৬ বাংলাদেশি প্রবেশ করে। এছাড়া মঙ্গলবার বিকাল ৪ টা পর্যন্ত আরো ৪৪ জন প্রবেশ করে। ফেরত আসা ৪৪ বাংলাদেশির মধ্যে ৫ জন কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপহাইকমিশন অফিসে কর্মরতও তাদের পরিবারের সদস্য এবং একজন ছিলেন বাংলাদেশি জাতীয় দলের খেলোয়ার। বাকিরা সবাই সাধারণ যাত্রী যাদের বেশির ভাগ গিয়েছিলেন চিকিৎসায়। এদিকে বাংলাদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দেরও দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে একটি ওয়েবসাইটে নির্দেশনা দেয় ভারতীয় দূতাবাস। এতে বাংলাদেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরীকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যে দেশে ফেরার অনুমতিও পায়। মঙ্গলবার বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ছাড় পত্র পেয়েছে ৫৮ জন। এদিন বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ভারতে ফিরেছে ১৪ জন ভারতীয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ভারত থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত খরচে ১৪ দিন বেনাপোলের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এদিকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের আরটিপিসিআরের করোনা নেগেটিভ সনদ থাকলেও তাদের বর্তমান শর্ত মানতে রাখা হচ্ছে ১৪ দিন আবাসিক হোটেলের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে । তবে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ব্যক্তিগত খরচে থাকতে অপারগত্া প্রকাশ করেন যাত্রীরা। ভারত ফেরতএসব যাত্রীরা বলেন, তারা বেশির ভাগ চিকিৎসায় গিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নিষেধাজ্ঞায় ভারতে আটকা পড়লে কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশি উপহাইকমিশনার অফিসে আবেদন করে ছাড়পত্র নিয়ে ফিরেছেন। তবে বাংলাদেশে আবাসিক হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন তাদের জন্য একদিকে যেমন অনিরাপদ তেমনি ব্যয়বহুল। প্রতিদিন রুম ভাড়া ৫ শ থেকে ১ হাজার গুনতে হবে। খাওয়াসহ অনান্য খরচ তো আছে। এছাড়া চিকিৎসা সেবার সুযোগ সেখানে নাই। কিভাবে অসুস্থ্য পরিবার নিয়ে থাকবেন। হোম কোয়ারেন্টাইনের আহবান জানান যাত্রীরা।
এদিকে সরকারের নিষেধাজ্ঞায় এপথে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াতে বিধি-নিষেধ ঘোষণা করা হলেও দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক রয়েছে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যি।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার আশরাফুজ্জামান বলেন, সরকার ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার পর ভারতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে এপর্যন্ত ৩৭৯ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী দেশে ফিরতে কলকাতায় বাংলাদেশ দুতাবাসে আবেদন করেছেন। গত দুই দিনে ফিরেছেন ৪৪ জন। বাংলাদেশে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরীকরা ভারতীয় হাইকমিশনার বরাবর আবেদন করে দেশে ফেরার অনুমতি পেয়েছেন ৫৮ জন। সকাল থেকে ভারতে ফিরেছেন ১৪ জন। ভারত থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত খরচে ১৪ দিন বেনাপোলের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এক জন ভারত ফেরত করোনা আক্রান্তকে বাংলাদেশিকে যশোর সদর হাসপাতালে রেড জোনে নেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি আহসান হাবিব বলেন, বাংলাদেশি উপহাইকমিশনারের ছাড় পত্র থাকায় আটকে পড়া যাত্রীদের কিছু ফেরার সুযোগ পেয়েছে। তবে নতুন করে যাতায়াত বন্ধ রয়েছে।



