ছাতক প্রতিনিধিঃ ছাতকে এক গৃহবধূকে যৌন হয়রানী ও মারধোর করার অভিযোগে দায়েরী মামলার আসামী আবু তাহের রুমেলকে ১০দিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আসামী ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় মামলা করেও বিপাকে পড়েছে নির্যাতিতা গৃহবধূ। বাদিনীর অভিযোগ আসামীরা প্রকাশ্যে থেকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি ও হুমকী-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, ছাতক সদর ইউনিয়নের বড়বাড়ী গ্রামের আব্দুর রশীদের পুত্র ইটালী প্রবাসী আবু তাহের রুমেল গত ২৮ অক্টোবর দেশে এসে নিজ বাড়িতে অবস্থান করে। বাড়িতে থাকাবস্থায় পাশের ঘরের জনৈক গৃহবধূর প্রতি তার কু-নজর পড়ে। গৃহবধূকে নিজের করে নিতে প্রায় সময় যৌন হয়রানীসহ মেলামেশা করার জন্য প্রস্তাব দেয় প্রবাসী রুমেল।
এক পর্যায়ে ৫০হাজার টাকার বিনিময়ে তার সাথে যৌন মিলন করার জন্য প্রস্তাব দিলে তাতে গৃহবধূ রাজী না হওয়ায় সে তার ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে। গত ২৯ অক্টোবর রাতে রান্নাঘরে একা পেয়ে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টায় গৃহবধূকে ঝাফটে ধরে রুমেল। এসময় গৃহবধূর চিৎকারে তার স্বামী ও তার ৬ বছরের শিশু কন্যা এগিয়ে এলে তিনজনকেই পিটিয়ে আহত করে লম্পট প্রবাসী রুমেল।
এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে ছাতক হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরআগেও একই রকম ঘটনা ঘটিয়ে রাতারাতি পালিয়ে প্রবাসে পাড়ি জমায় রুমেল। এ ঘটনায় ২ নভেম্বর নির্যাতিতা গৃহবধূ বাদী হয়ে প্রবাসী আবু তাহের রুমেল ও তার সহযোগি একই গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র সমুজ মিয়ার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ছাতক থানায় একটি মামলা (নং-০২) দায়ের করে।
নির্যাতিতা গৃহবধূর অভিযোগ, মামলা দায়ের ১০ দিন অতিবাহিত হলেও আসামীরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আসামীরা মামলা তুলে নিতে হুমকী-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। প্রভাবশালী আসামীদের ভয়ে স্বামী ও শিশু কন্যাকে নিয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছে গৃহবধূ। আসামী গ্রেফতারে পুলিশের অনিহা থাকায় তিনি ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ারও আশংকা করছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাদীনি।
এ ব্যাপারে ছাতক থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, মামলার তদন্ত কার্যাক্রমের পাশাপাশি আসামী গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





