ইসলামী মৌলবাদের তোষণ করছেন পশ্চিমবংগের দিদি আর বাংলাদেশের আপা

পশ্চিমবঙ্গে আমার দিদি আর বাংলাদেশে আমার আপা ইসলামী মৌলবাদের তোষণ করছেন?

 

বাংলাদেশে হিন্দু তথা ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ক্যাম্ব আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা সেমিনারে অংশ নিতে অতি সম্প্রতি কোলকাতা গিয়েছিলাম। শতাব্দী পুরোন এই শহরের সাথে আমার পরিচয় সেই একাত্তর থেকে। বরাবরই এই তিলোত্তমার রূপে মুগ্ধ ছিলাম। তবে এবারের অভিজ্ঞতা একটু ভিন্ন। বলা যায়, কিছুটা তিক্ত। ভেবেছি, এ কোন কোলকাতা? এ কোলকাতা তো আমি চিনিনা! প্রেস-কনফারেন্সে একথা বলেওছি। এও বলেছি, কোলকাতায় আমরা অভ্যর্থনা পেতেই অভ্যস্ত, কিন্তু এবার কষ্ট পেলাম। কষ্ট বা মানষিক নির্যাতন যাই হোক না কেন, প্রশ্ন তুলেছি, বাংলাদেশে হিন্দুরা নির্যাতিত, কোলকাতায়ও কি তাই? কিছু সংখ্যক ছাত্রযুবার অসভ্য আচরণে কি কোলকাতা মসীলিপ্ত হবে? জানিনা,কোলকাতা আগের মত লজ্জাশীলা কিনা, কিন্তু আমরা ‘লজ্জা’ পেয়েছি।

 

দাউদ হায়দার তার কবিতায় একই সাথে কৃষ্ণ ও মুহম্মদকে গালি দিয়েছিলেন, মুহম্মদের সমর্থকরা তাকে বাংলাদেশ থেকে খেদিয়ে দেয়, কিন্তু কৃষ্ণের অনুসারীরা কোলকাতায় তাকে আদর করে বরণ করে নেয়। সেটা সত্তরের দশক। এরপর নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে কলকাতায় আসেন, তিনিও সসম্মানে জায়গা পান। তবে বেশিদিন নয়, তাকে বিতাড়িত হতে হয়? মোল্লাদের খুশি করতে বামরা একরত্তি মেয়ে তসলিমাকে বিদায় করে! যেদেশে দ্রৌপদীর সন্মান রক্ষায় ‘মহাভারত কাণ্ডের’ সৃষ্টি সেদেশে আর এক নারীর অবমাননায় কৌতুকাভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষায় বুঝতে অসুবিধা হয়না, “সময় অনেক পাল্টাইছে”। জ্যোতিবাবু-বুদ্ধদেব বসুরা শুধু যে ভারতীয় উপমহাদেশে বাম রাজনীতির বারোটা বাজিয়েছেন তা নয়, কোলকাতার সর্বনাশ করে দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের ধ্বজাধরেই ‘উদার কোলকাতার’ কফিনে শেষ পেরেকটি মেরে দিচ্ছেন।

 

তাই এবার কোলকাতার কিছু সংখ্যক যুবার আচরণে লজ্জা পেলেও অবাক হইনি। পহেলা এপ্রিল শনিবার যাদবপুর ভার্সিটির পরিবেশ ইঞ্জিনিয়ারিং মিলনায়তনে দিনব্যাপী বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিলো। বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বের অন্তত: তিন ডজন সংগঠনের অর্ধ-শতাধিকের বেশি মানবাধিকার নেতাকর্মী তাদের মূল্যবান বক্তব্য রাখছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতের রাজনীতি নিয়ে ওখানে কারো মাথাব্যথা ছিলোনা। বরং বাংলাদেশ ও বাইরে থেকে আমরা যারা গিয়েছিলাম তারা বলার চেষ্টা করেছিলাম যে, একাত্তরে আপনাদের সাহায্য-সহযোগিতার জন্যে আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা আবার এসেছি, আপনাদের দ্বারে, সাহায্য চাই, বাংলাদেশের হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিশ্চিহ্ন হওয়া থেকে বাচাঁন। আমরা আপনাদেরই ভাইবোন, বন্ধু-পরমাত্মীয়, আমাদের বাঁচান, আমাদের কথা বলুন, আমাদের পাশে দাঁড়ান। আমরা আরো বলতে চেয়েছিলাম, বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদ মাথাচাঁড়া দিয়ে উঠেছে, সবাই মিলে ওই দানব রুখতে হবে, নইলে শুধু আমরা নই, আপনারাও ভালো থাকবেন না? পাশের বাড়ীর আগুন আপনার বাড়িতেও লাগবে।

 

কিন্তু চোরা না শুনে ধর্মের কাহিনী। অনুষ্ঠানের প্রায় শেষের দিকে একদল ছাত্রযুবা প্রথমে হলে ঢুকে। তারপর বাইরে এসে হলের দেয়ালে কিছু পোষ্টার লাগায়। কেউ একজন সেই পোষ্টার ছিড়ে ফেলেন। এনিয়ে হৈচৈ ধাক্কাধাক্কি হয়। ভার্সিটির নিরাপত্তা কর্মীরা এসময় মেইনগেট বন্ধ করে দেন। যারা হৈচৈ করছিলো তারা তখন গেটে অবস্থান নেয়। শ্লোগান, একতরফা খিস্তি-খিউর চলতে থাকে। শুনেছি আমাদের বাংলাদেশের এক বন্ধুকে ওরা হেনস্তা করেছে। ইতোমধ্যে সবাই বিদায় নিতে থাকে এবং শেষে আমরাও চলে আসি। রাতে শুনলাম ক’টি ভুয়া এফআইআর হয়েছে। পরের দিন আমাদের সম্মেলটি ছিলো একাডেমী অফ ফাইন আর্টসে। ওরা সেখানেও বিক্ষোভ করে। ভেতরে অবশ্য আমরা সাংবাদিক সম্মেলনে কথা বলেছি। আমেরিকা, কানাডা, বৃটেন ও বাংলাদেশের অতিথিরা ঘটনা বর্ণনা করেন। সবার মনেই প্রশ্ন ছিলো, এই বিক্ষোভ কেন এবং কার বিরুদ্ধে, কারা করছেন? ইসলামী মৌলবাদীরা সেটা করতে পারতেন, কিন্তু যতটা শুনেছি, ওরা নাকি অতি বাম?

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও এই অতি বামরা বিরোধিতা করেছিলো। দেশের প্রথম নির্বাচনে ওদের একটি শ্লোগান ছিলো, ‘রইলো তোদের নির্বাচন, চললাম আমরা বৃন্দাবন’। বুঝলাম ওরা বৃন্দাবনে যায়নি, কলকাতায় চলে এসেছে! অতি বাম আর ইসলামী মৌলবাদ একই জিনিস। বলা যায়, একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তা হটাৎ এরা আমাদের বিরুদ্ধে ক্ষ্যাপলো কেন? জানা গেল, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি।

লেখক ও কলামিস্ট সীতাংশু গুহ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।