সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সাথে বাণিজ্যমন্ত্রীর মতবিনিময়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সাথে বাণিজ্যমন্ত্রীর মতবিনিময়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত

ঢাকা: সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ীক অংশিদার। উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রচুর সুযোগ রয়েছে, এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে, এগুলোর প্রায় অর্ধেকের কাজ সমাপ্তির পথে। এগুলোতে জাপান, ভারত, চীন, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে এগিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় সুযোগসুবিধা প্রদান করছে। মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ সুইজারলান্ডের জন্য লাভজনক বিনিয়োগস্থল হতে পারে। সুইজারল্যান্ডের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদল বাংলাদেশ সফর করলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আজ ঢাকায় অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড এর সাথে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন।

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেন, সুইজারল্যান্ড বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অগ্রাধীকার দেয়। বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে সুইজারল্যান্ড প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। উভয় দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে এবং বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। ফার্মিাসিউটিকেল এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রচুর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে একটি বৈঠক করার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এতে করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা সহজ হবে। করোনা মোকাবিলা এবং করোনাকালে রপ্তানি বাণিজ্য অব্যাহত রাখার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্যক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক সক্ষমতা অর্জন করেছে।

টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৩ ভাগ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। সরকার রপ্তানিখাতের পণ্য সংখ্যা বৃদ্ধি করতে কৃষিজাত পণ্য, ফার্মিাসিউটিকেল, চামড়াজাত পণ্য, আইসিটি, পাটজাত পণ্য সেক্টরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রচুর দক্ষ জনশক্তি রয়েছে। এছাড়া, সেবা খাতেও বাংলাদেশের প্রচুর দক্ষ জনশক্তি রয়েছে। সুইজারল্যান্ড চাইলে তা ব্যবহার করতে পারে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাপানের বিখ্যাত মিটশুবিসি এবং ভারতের টাটা কোম্পানি বাংলাদেশে গাড়ি তৈরি কারখানা স্থাপনের চিন্তা করছে। ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট এফডিআই আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ কোম্পানি আইন সময়োপযোগী করাসহ ব্যবসা সহজীকরণের অন্যান্য সূচকেও প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করেছে।

বাংলাদেশ ২০১৮২০১৯ অর্থবছরে সুইজারল্যান্ডে রপ্তানি করেছে ১০৬ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য, একই সময়ে আমদানি করেছে ২৭০ দশমিক ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। ২০১৯২০২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১০৬ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে এবং জুলাইমার্চ সময়ে আমদানি করেছে ২৪৫ দশমিক ১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশের সাথে সুইজারল্যান্ডের বাণিজ্য বৃদ্ধি ও বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠানের বিষয়ে উভয়ে একমত পোষণ করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।