× Banner
সর্বশেষ
পশ্চিমবঙ্গে শব্দদূষণ রোধে লাউডস্পিকার অপসারণ, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের দাবি সরকারের আজ ৭ আগস্ট বৈদিক জ্যোতিষে রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় আজ ২১ শ্রাবণ শুক্রবারের দিনপঞ্জি ও ইতিহাসের এইদিনে শ্যামনগরে প্রতিবন্ধী,দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে দুই লক্ষাধিক টাকার চেক বিতরণ শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ৪২তম শাহাদৎবার্ষিকী অনুষ্ঠিত তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের জামিন বাতিল, আত্মসমর্পণের নির্দেশ লিবিয়ায় মাফিয়ার নির্যাতনে মাদারীপুরের যুবকের মৃত্যু পাইকগাছায় ছাত্র ও দরিদ্র মানুষের মাঝে সাইকেল, সেলাই মেশিন ও ভ্যান বিতরণ মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর কমান্ডারের বাংলাদেশ সফর শেষ

রুপ কুমার সরকার

সংবিধান উপেক্ষা করে হিন্দু নারীদের নামের পূর্বে বেগম

Kishori
হালনাগাদ: সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
হিন্দু নারীদের নামের পূর্বে বেগম

সম্প্রতিককালে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, দেশের সরকারি চাকরিজীবী হিন্দু নারীদের নামের পূর্বে ‘বেগম’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪১ এ উল্লেখ আছে, যা ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়। সংবিধান উপেক্ষা করে হিন্দু নারীদের নামের পূর্বে বেগম ব্যবহার করা হয়।

সম্প্রতি আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের  নথিতেও এরকম ভুল উপস্থাপিত হয়েছে। যে মন্ত্রণালয় নাগরিকের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ও আইনি মর্যাদা রক্ষার দায়িত্বে, সেই প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের ভুল স্বাভাবিকভাবেই গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের Article 18–19 যেখানে ধর্মীয় পরিচয় ভুলভাবে আরোপ বা বিকৃতি নিষিদ্ধ। সেখানে এটি শুধু ভাষাগত ভুল নয়; বরং সরাসরি পরিচয়-বিকৃতি ও সাংস্কৃতিক অসংবেদনশীলতার উদাহরণ।

‘বেগম’ ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম নারীদের সম্মানসূচক উপাধি; অন্যদিকে ‘শ্রীমতী’ হিন্দু নারীদের প্রচলিত ও সাংস্কৃতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সম্বোধন। এত স্পষ্ট ও স্বীকৃত পার্থক্যের মধ্যেও হিন্দু নারীর নামের সাথে ‘বেগম’ যুক্ত করা রাষ্ট্রীয় নথিতে cultural misrepresentation যা শুধু পরিচয় বিকৃতই করে না, বরং সংখ্যালঘু নারীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মর্যাদাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

রাষ্ট্রীয় নথির একটি মৌলিক নীতি হলো:

ব্যক্তির সঠিক নাম, ধর্মীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রেখে নথি প্রণয়ন করা।

এই নীতি শুধু প্রথাগত নয়; এটি সমর্থিত:

বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ২৮ ও ৩১

যেখানে নাগরিকের সমতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও বৈষম্যবিরোধী অধিকার সুরক্ষিত।

অনুচ্ছেদ ৪১

যা ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের Article 18–19 যেখানে ধর্মীয় পরিচয় ভুলভাবে আরোপ বা বিকৃতি নিষিদ্ধ।

আন্তর্জাতিক প্রশাসনিক মানদণ্ড (Accurate Personal Identification Principle)

যেখানে সরকারি নথিতে নাম, ধর্ম, লিঙ্গ ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের নির্ভুলতা বাধ্যতামূলক।

অতএব, হিন্দু নারীর নামের সাথে ভুল সম্বোধন ব্যবহার করা শুধু অশুদ্ধিই নয়; এটি সাংবিধানিক অধিকার ও প্রশাসনিক নীতিরও ব্যত্যয়।

সুতরাং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ সব সরকারি দপ্তরের প্রতি অনুরোধ রাষ্ট্রীয় নথি প্রণয়নে হিন্দু নারীদের ক্ষেত্রে ‘শ্রীমতী’ শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি অবিলম্বে ও কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হোক।

এটি কেবল একটি শব্দের সংশোধন নয়; বরং নাগরিকের সাংস্কৃতিক মর্যাদা, ধর্মীয় পরিচয় এবং সংবিধানসম্মত অধিকার রক্ষার অংশ।

সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণ কোনো বিরোধ সৃষ্টি নয় এটি ন্যায্য দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।  যেন ভবিষ্যতে আর কোনো নাগরিকের পরিচয় এভাবে ভুলভাবে উপস্থাপিত না হয়।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..