মোঃ মাসুদুর রহমান শেখ বেনাপোলঃ যশোরের শার্শার এমপি আলহাজ¦ শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, আজকের গল্পটা এক রাজকন্যার। তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতী নদীর তীরবর্তী প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জ্যেষ্ঠ কণ্যা তিনি। বিশ^রেকর্ড করে একটানা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ৪০ বছরের সভাপতি এবং একটানা ৩য় বারসহ ৪র্থ বারের সফল প্রধানমন্ত্রী। আজ সেই রাজকণ্যা বাংলাদেশের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫-তম জন্মদিন। মঙ্গলবার বিকেলে শার্শায় জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫-তম জন্মদিন উদযাপনে বিশাল জনসমুদ্রে কেক কেটে ও দোয়া করে কথাগুলি বলেন তিনি।
শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে শেখ আফিল উদ্দিন এমপি তাঁকে শার্শার বিশাল আওয়ামীলীগের সংগঠণ উপহার দেন। বলেন, টানা ৩য় বারের এমপি জীবনে তিনি তীলে তীলে শার্শা উপজেলার তৃর্ণমূল পর্যন্ত আওয়ামীলীগের বিশাল কর্মী বাহিনী তৈরি করেছেন। গড়ে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য বিশাল আওয়ামীলীগের সংগঠণ। যা তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে উপহার দিলেন তিনি।
শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যশোর জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন আরো বলেন, মহান দয়ালু আল্লার অশেষ রহমতে শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন বলেই ভুখা-নাঙা বাঙালি আজ সোনার দেশে পরিণত হয়ে উন্নত দেশের স্বপ্ন চুড়ায় অবস্থান করছে। ঠিক সেই রূপকথার গল্পের মতো এক রাজকন্যার জাদুর কাঠির কারসাজির ন্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাবার স্বপ্ন বুকে ধারন করে একের পর এক উন্নয়নের ধারায় বদলে দিচ্ছে বাংলাদেশকে।
তিনি বলেন, মাত্র ১ যুগ আগের কথা। বাংলাদেশ ছিল দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দুর্বল রাষ্ট্র। জঙ্গিবাদের লাগামছাড়া উত্থানের কারণে দেশটির কপালে জুটেছিল ব্যর্থ রাষ্ট্রের খেতাব। ঋণ-দাতা রাষ্ট্র ও সংস্থা এ দেশকে কান ধরে ঘুরাতো। বারো বছরের মাথায় সেই দেশ এখন পৃথিবীর অন্যতম সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র্র। এদেশে এখন দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে স্থিতিশীল অর্থনীতি। যে দেশ চলত ঋণের টাকায়, সে দেশ এখন ক্যারেন্সি সোয়াপের মাধ্যমে অন্যকে ঋণ দেয়।
এসময় শেখ আফিল উদ্দিন এমপি বলেন, সেই মহীয়সী রাজকন্যা সেদিন ঘোষণা দিয়েছিলেন, নিজেদের টাকায় আমরা পদ্মা সেতু বানাব। তখন এদেশের স্বাধীনতা বিরোধীরা উপহাস করে বলেছিলো, নিজেদের টাকায় বাঁশের সেতু হবে। অথচ ১০ বছরের মাথায় সেই উপহাস আজ ফিরে গেছে নিন্দুকের দিকে। শত্রুর মুখে ছাই পড়েছে। পদ্মাসেতু আজ বাস্তবতা। যারা দুর্নীতির কথা বলে ভ্রুকুটি করেছিল, তারাই স্বীকার করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সততার। সেই রাজকন্যা পেয়েছেন পৃথিবীর সেরা তিন সৎ রাষ্ট্র নেতার মধ্যে স্থান। তৃতীয় বিশ্বের আধমরা এক দেশ কী বিস্ময় দেখিয়ে দিল তা বড় বড় চোখ করে দেখছে বিশ্ব নেতারা।
তিনি বলেন, শুধু পদ্মা সেতু নয়, হচ্ছে দুটো বৃহৎ গভীর-সমুদ্র বন্দর। দেশের এক মাথা থেকে আরেক মাথা পর্যন্ত গড়ে তোলা হচ্ছে শক্তিশালী রেল নেটওয়ার্ক। বন্দরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক আমদানি রপ্তানির কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। হচ্ছে ৫৫ টি সরকারি ও ১১ টি বেসরকারি ইকনোমিক জোন। এর মধ্যে চট্রগ্রাম, ফেনী ও নোয়াখালীর বিস্তীর্ণ সমুদ্রতট ফুঁড়ে জেগে ওঠা বঙ্গবন্ধু ইকনোমিক জোন, যা একাই যোগান দেবে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি। তের হাজার একরেরও অধিক ভূমি নিয়ে গড়ে উঠছে এক বিস্ময়। ঢাকা শাহজালাল বিমানবন্দরে দ্বিতীয় রানওয়ে ও তৃতীয় টার্মিনালের কাজ চলছে। শেষ হলে এটাই হবে এশিয়ার সেরা বিমানবন্দরগুলোর একটি। সিঙ্গাপুরের চেঙ্গি বিমানবন্দরকে দেখা যাবে ঢাকার কুর্মিটোলায়। কক্সবাজারে রানওয়ে বিস্তৃত করে সুপরিসর বিমান উঠানামা করার উপযোগী করা হচ্ছে। সৈয়দপুর বিমানবন্দর হতে যাচ্ছে আঞ্চলিক বিমানবন্দর। এই তিন বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে দ্রুত বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর-হংকংয়ের মতো একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আসিফ-উদ-দৌলা অলোক, শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু, বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ¦ এনামুল হক মুকুল, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ নাসির উদ্দিন, শার্শা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য অহিদুজ্জামান, সাধারন সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার, বেনাপোল ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ বজলুর রহমান, উলাশী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আয়নাল হক, বাগআঁচড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কবির বকুল, গোগা ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আব্দুর রশিদ, কায়বা ইউপি চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহমেদ টিংকু, পুটখালী ইউপি চেয়ারম্যান হাদিউজ্জামান, বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, নিজামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আযাদ, ডিহি ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ হোসেন আলী, লক্ষণপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান কামাল হোসেন, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, লক্ষণপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামছুর রহমান, নিজামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, শার্শা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি কওছার আলী, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ মোরাদ হোসেন, কায়বা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, গোগা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রহমত আলী, বেনাপোল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি তাহাজ্জেল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইদুজ্জামান শহীদ, বেনাপোল পৌর যুবলীগের আহবায়ক আহাদুজ্জামান বকুল, যুগ্ম আহবায়ক জসীম উদ্দিন, সেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টু, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, ছাত্রলীগের সভাপতি আল মামুন জোয়াদ্দার, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমানসহ শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।



