শিক্ষার্থীদের এবার স্কুলে ফেরার পালা -শিতাংশু গুহ

নিউইয়র্কের শুক্রবার সকালে ফেইসবুকে একটি পোস্টিং দেই, যাতে লিখি: ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি শিক্ষার্থীদের মা, সন্তানের কাছে মা যেতেই পারেন, ওদের ঘরে ফেরান, ওরা মায়ের কথায় ঘরে ফিরবে। ধন্যবাদ’। প্রথম ঘন্টায় প্রতি মিনিটে একটি করে ‘লাইক’ পড়েছে, দেখে ভালো লাগলো। অর্থাৎ, মানুষ চাচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এই বাচ্চাগুলোর সাথে মায়ের আচরণ করুন এবং ওদের ঘরে ফেরান।

প্রধানমন্ত্রীর কথায় ওরা ঘরে ফিরবে, এটা বলা বাহুল্য। এই লেখাটি যখন প্রকাশ হবে, আশা করবো বাচ্চারা ততক্ষনে ঘরে ফিরে গেছে। যদি সেটা না হয়, সামনে সমস্যা বাড়বে? শিক্ষার্থীদেরও বলতে চাই, ‘অনেক হয়েছে, পুরো দেশ তোমাদের সমর্থন জানিয়েছে, দিয়া ও করিমের পরিবার তোমাদের ঘরে ফেরার আহবান জানিয়েছে, আর রাস্তায় নয়, প্লীজ রোববার থেকে স্কুলে যাও’। ‘তোমরা দেখিয়ে দিয়েছো, তোমরা পারবে, তবু বলবো, রাস্তা নয়, তোমাদের মানায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে’। শিক্ষাঙ্গন হোক তোমাদের কলরবে মুখরিত।

একজন বললেন, ‘দাদা, পোলাপাইনরে ঘরে যাইতে কইতাছেন, সরকারের কি করণীয় সেইডা একটু ক’ন’? সরকার ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের নয়টি দাবী মেনে নিয়েছেন। বিশেষ ট্রাফিক পুলিশ, বাস প্রদান, আন্ডারপাস নির্মাণের ঘোষণা এসেছে। পুলিশ বলেছে, শিশুরা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। মন্ত্রীরা বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ওপর বাস তুলে দেয়া দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকান্ড’।

সরকার সদিচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছেন, সরকারকে সময় দিতে হবে। সরকারের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান করা, শিশুদের তো বটেই। জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখাও সরকারের দায়িত্ব। শুরুতে ভালো লাগলেও, শিশুরা এখন যা করছে, সেটি তাদের কাজ নয়? চাইলেও দেশ থেকে রাতারাতি সকল দুর্নীতি বা অনিয়ম দূর হয়ে যাবেনা। এই শিশুদের ঘরেই কি দুর্নীতি নেই? নগরে যখন আগুন লাগে, দেবালয় তাতে রক্ষা পায়না, দুর্নীতি যখন সর্বত্র, এর ছোঁয়া ওদের বাড়িতেও আছে।

কথা হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা চমৎকার কাজ করেছে, এবার ঘরে ফেরার পালা। শিক্ষক ও অভিভাবকরা হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারেন না, ওদের ঘরে ফেরান। কেউ কেউ মন্ত্রীদের কারো কারো পদত্যাগের কথা তুলছেন। মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেই কি, আর না করলেই শিশুদের কি? বাংলাদেশে কি কেউ পদত্যাগ করে? তবে শিক্ষামন্ত্রীর উচিত ছিলো শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলা! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কিছু ঘটলে প্রশাসন দায়িত্ব নেবেনা। ৱ্যাবের প্রধান বলেছেন, সন্তান যে রাস্তায় আছে তারা নিরাপদ নাও থাকতে পারে। পুরো দেশের মানুষ চাইছে, শিক্ষার্থীরা এবার স্কুলে ফিরে যাক। পিতামাতার কাছে সন্তানের নিরাপত্তা সর্বাগ্রে। নিরাপত্তার খাতিরে শিক্ষাথীদের এখন রাস্তা ছাড়ার পালা। কারো সন্তানের অঘটন ঘটুক তা কাম্য নয়।

সমস্যা হচ্ছে, আন্দোলন এখন আর আন্দোলনের জায়গায় নেই? বিভিন্ন পোষ্টার ইঙ্গিত দিচ্ছে, আন্দোলন ছাত্র-ছাত্রীদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। আন্দোলন আরো চললে এটি আর শিক্ষার্থীদের হাতে থাকবে না। যারা শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানাচ্ছেন, তারা পিছু হটবেন। আন্দোলন রূপ নেবে নৈরাজ্যে। আন্দোলনের ভেতরে বিশৃঙ্গলাকারীরা ঢুকবেই বা ইতিমধ্যে ঢুকেছে। অন্যরা আন্দোলন থেকে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করবে। এসব লক্ষণ ইতিমধ্যে স্পষ্ট। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত ইন্নোসেন্ট, সাকসেসফুল, ও নন-ভায়োলেন্ট আন্দোলন আপনি থেকে স্বাভাবিক নিয়মে শেষ হোক।

শিতাংশু গুহ, কলাম লেখক। নিউইয়র্ক সময় দুপুর ২টা, শুক্রবার ৩রা আগষ্ট ২০১৮।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।