লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা বাবর হত্যা মামলায় ১১ জনের ফাঁসি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা বাবর মিয়া হত্যা মামলায় ১১ জনের ফাঁসি ও প্রত্যেকের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো:সাইদুর রহমান গাজী এ আদেশ দেন। এসময় এ মামলায় আরো ৪ জন আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।

আদালতে এজাহার নামীয় ৩ জন হাজতী উপস্থিত ছিল, অন্য আসামীরা পলাতক রয়েছেন। এর মধ্যে হাজতী মোর্শেদ আলম ও মাসুদ মৃত্যৃদন্ড প্রাপ্ত হন।

মৃত্যৃদন্ড প্রাপ্তরা হলেন, আলম, মহিউদ্দিন, মিরাজ, মঞ্জু, মাইন উদ্দিন, মোর্শেদ আলম, মাসুদ, কালা মুন্সি, সাইফুল ইসলাম মামুন, আব্দুস সহিদ ওরফে ভুট্রো, আবুল বাশার। খালাশ প্রাপ্তরা হলেন, জামাল, নুরুল হুদা, আলী হোসেন নসু ও নুরুল হক।

আদালত সুত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ৮ মার্চ গভীর রাতে সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি এলাকার ভুঁইয়ার হাট বাজার থেকে বাড়ী ফেরার পথে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বাবরকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় ১০ মার্চ নিহতের ভাই নুরুল আলম বাদী হয়ে ২০ জনকে আসামী করে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৮)দায়ের করেন।

দীর্ঘ শুনানী শেষে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ৩ আসামীর উপস্থিতিতে ১১ জনকে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসি ঝুলিয়ে মৃত্যু দন্ড কার্যকর ও অর্থদন্ডের আদেশ দেন। অর্থদন্ড আদায়ে ব্যার্থ হলে বিভিন্ন মেয়াদে সাজার আদেশ দেন আদালত। এসময় চার্জশীটভুক্ত অপর  ৪ আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়। পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আসামী পক্ষের মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ও আবুল বাশার। রাষ্ট্র পক্ষের মামালা পরিচালনা করেন লক্ষ্মীপুর জজকোর্টের এ পি পি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।

আসামী পক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন কবির  সস্তোস প্রকাশ করে বলেন, নুরুল হক নামের এক আসামীর পক্ষে তিনি লড়েছেন তাকে আদালত খালাস করে দিয়েছেন।

অপর আইনজীবী আবুল বাশার বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক মামলা, বাদী পক্ষ দাবী করেছেন বাবরকে পরিকল্পিতভাবে আঘাত করে হত্যা করছে। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৩ জন সাক্ষি রয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবী ছিল ১৬৪ ধারার স্ট্রেটমেন্টে সাইফুল ইসলাম মামুনকে টর্চার করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লক্ষ্মীপুর জজকোর্টের এ পি পি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম রায়ে সস্তোস প্রকাশ করে জানান, ২০০৩ সালের ৮ মার্চ গভীর রাতে মাওলানা বাবর মিয়াকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। আদারত দীর্ঘ শুনানী শেষে ১১ জন আসামীকে মৃত্যুদন্ড দেন। অপর ৪ আসামীকে খালাস প্রদান করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।