রংপুরের আলোচিত চার খুন: সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে মেলেনি মাদকের আলামত

রংপুরের আলোচিত চার খুন: সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে মেলেনি মাদকের আলামত
রংপুরে পরিবারের ৪ সদস্যের মৃত্যু, ঘটনার সময় বন্ধ ছিল সবার ফোন ও বিদ্যুৎ

রংপুর নগরীর ঐতিহ্যবাহী গণপতি পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মূল আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফল পাওয়া গেছে। ল্যাবরেটরি রিপোর্টে তাদের শরীরে কোনো প্রকার অবৈধ মাদকের উপস্থিতি মেলেনি। তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, ঘটনার ১০ দিন পর নমুনা সংগ্রহ করা হলেও টেস্টের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।

কারাগার ও মামলার তদন্ত সূত্র জানায়, গত ২০ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা দেবীসহ পরিবারের চারজন সদস্য নিজ বাড়িতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর পুলিশ ও ডিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা জানায়, হত্যাকাণ্ডের সময় তারা চরম উন্মাদনা ও মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিল। এর প্রেক্ষিতেই আদালতের আদেশে গত ৩০ আগস্ট (রোববার) রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপস্থিতিতে আসামি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করেন চিকিৎসকরা।

পরে হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়—উভয় আসামির নমুনায় ইয়াবা, গাঁজা বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি (ডোপ টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ)।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, যেকোনো মাদক সেবনের পর তা মানবদেহে বা প্রস্রাবে সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা থেকে ৪-৫ দিন পর্যন্ত অবস্থান করে। ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ১০ দিন পর ডোপ টেস্ট করায় শরীরে স্বাভাবিকভাবেই মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানান, “অপরাধ সংঘটনের সাথে সাথেই যদি ডোপ টেস্ট করা হতো, তবে সঠিক চিত্র উঠে আসত।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ল্যাব রিপোর্টের কারণে আইনগত নথিতে মাদকের বিষয়টি প্রমাণিত না হলেও, আসামিরা ইতোমধ্যেই বিচারকের খাসকামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে নিজেদের প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। ফলে ডোপ টেস্টের এই ফলাফল মূল মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় এবং চার্জশিটে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ডোপ টেস্টের রিপোর্টটি মামলার সার্বিক নথিপত্রের অংশ হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া হবে। আসামিদের স্বীকারোক্তি এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামতের ওপর ভিত্তি করেই দ্রুততম সময়ে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করা হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।