বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, তরুন সমাজ সেবক ও আওয়ামীলীগ নেতা হাজী মোঃ মাসুদ বলেছেন, অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ঢাকার হানিফ ও জনতার হানিফ। তিনি দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করার বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
দলীয় রাজনীতি করলেও তার উদার চিন্তাচেতনা, প্রখর ব্যক্তিত্ব আর সংবেদনশীল মনোভাবের কারণে দলমত নির্বিশেষে সব মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল অপরিসীম। অতুলনীয় সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। সম্প্রতি দীর্ঘ আলাপচারিতায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ২৮ নভেম্বর তাঁর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী। আমি তাঁর বিদেহী আত্মায় মাগফেরাত কামনা করছি। এছাড়াও তাঁর আত্মায় মাগফেরাতের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি। তিনি (ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন এর পিতা। তাঁর সুযোগ্য সন্তান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সফল মেয়র আলহাজ¦ মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বাবার মতো ন্যায় ও সততার সাথে মানুষের কল্যাণে এবং ঢাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর (মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন) জন্যও সকলের দোয়া ও আর্শিবাদ কামনা করছি।
এদিকে তিনি আরও বলেন, বংশালে জাদুমাখা কণ্ঠের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল মোহাম্মদ হানিফের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। সেই হানিফ বক্তৃতা দিতে দিতেই মঞ্চে স্ট্রোক করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন যান ২০০৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে নগর ১৪ দলের এক প্রতিবাদ সমাবেশে। পাশে বসা মোহাম্মদ হানিফের ছেলে আলহাজ¦ মোহাম্মদ সাঈদ খোকন সঙ্গে সঙ্গে বাবাকে জড়িয়ে ধরেন। তারপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বারডেমের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক সেন্টারে। এই ভাষণই মোহাম্মদ হানিফের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের শেষ ভাষণ। এর পর আর কোনোদিন তার সেই ভরাট কণ্ঠে ভাষণ দেননি তিনি। আর যাননি কোনো মঞ্চে। আর ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর মৃত্যুর কাছেই হার মানেন মোহাম্মদ হানিফ। চির অবসান ঘটে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের। নিভে যায় বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে উজ্জ্বল এক নক্ষত্র।
জানা যায়, ১৯৪৪ সালের ১ এপ্রিল ঢাকার সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মোহাম্মদ হানিফ। ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাতে ৬২ বছর বয়সে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মোহাম্মদ হানিফ ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৬৫ সালে বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিবের দায়িত্ব পান। এ সময় ছয়দফা মুক্তি সনদ প্রণয়ন ও প্রচারে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেয়া সূত্রাপুর-কোতোয়ালী আসনের সংসদ সদস্য (উপনির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়) নির্বাচিত হন মোহাম্মদ হানিফ। এরপর হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। ’৭৬ সালে তিনি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।





