মাছ চুরির অভিযোগে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

কক্সবাজারের পেকুয়ায় মাছ চুরির অভিযোগ তুলে ৭ জেলেকে আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছে একটি প্রভাবশালী মহল। এসময় জেলেদের মাথা ন্যাড়াসহ শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এছাড়া জেলেদের জিম্মি করে তাদের নিজের ধর্মবিরোধী অশ্লীল বক্তব্য আদায় করা হয়। শুক্রবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের বদি উদ্দিন পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতিত জেলেরা হলেন, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের জেলে এলাকার জতিন্দ্র দাসের ছেলে লেদু মিয়া সর্দার, একই এলাকার মনাত সর্দারের ছেলে গোপাল সর্দার, তার ছেলে লিটন সর্দার, দিলিপ সর্দারের ছেলে ঝমুুর সর্দার, বাবুল সর্দারের ছেলে লিটন, মৃত বরদ্দারের ছেলে অরুণ সর্দার ও বোয়ালখালী উপজেলার গৌর নন্দী এলাকার হাসির ছেলে দুলাল।

এদিকে এসব নির্যাতন সহ ধর্ম অবমাননাকর বক্তব্যের ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ব্যাপক ঝড় উঠে উপজেলা জুড়ে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এসব জেলেদের এমন নির্যাতনের ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। কিন্তু নির্যাতনের খবর চাউর সহ ভিডিও প্রকাশ হলেও এব্যাপারে দৃশ্যত কোন ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। তাই বুক চেপে নির্যাতন সয়ে নিজেদের  বাড়ি ফিরেছে অসহায় জেলেরা।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় পেচু মিয়া বাড়ির পুকুরে মাছ ধরার জন্য চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে মজুরিভিত্তিক একদল জলদাস আনেন মিয়া বাড়ির কারবারি ও রাজাখালী ইউনিয়নের বদি উদ্দীন পাড়া এলাকার কাচিম আলীর ছেলে নুরুল আবছার প্রকাশ বদু মেম্বার। মাছ ধরা শেষে জেলেরা তাদের জালসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম নিয়ে পটিয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। কিন্তু তারা ইউনিয়নের মগনামা সীমান্ত ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বদু মেম্বারের নির্দেশে একদল ব্যক্তি তাদের আটক করে ফের বদি উদ্দিন পাড়ায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের আটকে রেখে নির্যাতন চালায় একই এলাকায় আতিক মুন্সী, আব্দুল কাদের, ওসমান গণিসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি। মাথাও ন্যাড়া করে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ঘুরানো হয় জেলেদের। এরপর জোর করে নিজেদের ধর্মবিরোধী আপত্তিকর মন্তব্য রেকর্ড করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে তাদের  মধ্যস্থতায় নির্যাতিত জেলেরা মুক্তি পায়।

নির্যাতনের শিকার এক জেলে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ২৪ আগস্ট (শুক্রবার) আমরা পেকুয়ার মিয়া বাড়ির পুকুরে মাছ ধরতে যাই। পুকুরটির তত্বাবধায়ক বদু মেম্বারই আমাদের মজুরিভিত্তিতে নিয়ে গিয়েছিলো।  পুুকুরে মাছ ধরা শেষ করে ফেরার পথে বদু মেম্বারের নির্দেশে মাছ চুরির অভিযোগ এনে আমাদের উপর  নির্যাতন চালানো হয়। মাথা ন্যাড়া করে দেয়া হয়। নিজ ধর্মের বিরুদ্ধে অাপত্তিকর মন্তব্য করতে বাধ্য করা হয়। আমরা অসহায় জেলে। তাই মুখ বুজে সহ্য করা ছাড়া উপায় ছিলোনা। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে।

তবে এব্যাপারে অভিযুক্ত বদু মেম্বারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও  সংযোগ পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ না পাওয়ায় আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব উল করিম সিভয়েস’কে জানান, বিষয়টি আসলে আমার জানা নেই। ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিওতে যদি কোনরকম ধর্ম অবমাননার বিষয় থাকে তবে  তার বিরুদ্ধে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।