মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডব্লিউএফপি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর Coco H. Ushiyama আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ইয়াসমীন পারভীন উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং এ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সংক্রান্ত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডব্লিউএফপি’র দীর্ঘদিনের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল নারীদের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা, সরকার গঠনের প্রথম মাস থেকেই বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এবং এই অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তাই প্রদান করছে না, বরং তাদেরকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আয়বর্ধক কাজে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করছে এবং প্রশিক্ষণ শেষে সিড মানি প্রদান করে উদ্যোক্তা হতেও সহায়তা করছে। মন্ত্রী মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এমসিবিপি সম্পর্কে ডব্লিউএফপি’র কান্ট্রি ডিরেক্টরকে বিস্তারিত জানালে তিনি এর প্রশংসা করেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে মিড-ডে মিল কর্মসূচি সকল উপজেলায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। এক্ষেত্রে খাদ্যের পুষ্টিমান বিবেচনায় রেখে সুষম খাদ্য নির্বাচনের বিষয়টিও সরকার নিয়মিত তদারকি করছে।
ডব্লিউএফপি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর Coco H. Ushiyama বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষায় সরকারের গৃহীত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ডে পরিবারের নারীদের নামে কার্ড ইস্যু করার ঐতিহাসিক পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত। ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের কারিগরি ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হলে, ডব্লিউএফপি’র পক্ষ হতে সহযোগিতা করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডব্লিউএফপি’র পরিচালিত কল্যাণমুখী কার্যক্রমের কথা মন্ত্রীকে অবহিত করেন। একইসাথে সম্প্রতি বাংলাদেশের চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতিতে ডব্লিউএফপি যেভাবে সরাসরি মাঠপর্যায়ে সহায়তামূলক জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সে বিষয়েও আলোকপাত করেন।