রাজারহাটে ভিখারিণী ছালেহার ত্রাণ ও ঘর নিয়ে রাজনীতি

রাজারহাটে ভিখারিণী ছালেহার ত্রাণ ও ঘর নিয়ে রাজনীতি
এ.এস.লিমন,রাজারহাট(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ  কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখাঁন ইউপির রাঘব ঝাঁড়িঝাড় এলাকার মৃত বছিয়ত উদ্দিনের স্ত্রী ভিখারিণী মোছাঃ ছালেহা বেগম (৫২) কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক করছেন কিছু সংখ্যাক স্থানীয় লোকজন।
ভিখারিণী  মোছা: ছালেহা বেগমের জিবন-যাপনের একটি ভিডিও প্রাণের রাজারহাট আইডি থেকে  গত ১১ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে মোছাঃ ছালেহা বেগমের পরিত্যাক্ত ঘরটি মাটিতে মিশে গেছে এবং এই একমাত্র ঘরে ছালেহার বসবাস। যা বসবাসের একদম অনুপযোগী। ঘরের ভিঁতর তাঁকালে দেখা যায় শোয়ার জায়গা টি মাটিতে মিশে যাওয়া ইত্যাদি বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া একমাত্র  ভিক্ষার পথটি করোনার ভয়াবহতার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিরুপায় ও অসহায় জিবন যাপন করছেন ছালেহা। তিনি এখন পর্যন্ত কোন ত্রাণ পাননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়টি অনুসন্ধানে জানা যায়, মানসিক ভারসাম্যহীন মোছাঃ ছালেহা বেগম (৫২) ভিক্ষাবৃত্তি করে অসহায়ভাবে জীবন-যাপন করছেন। নাজিমখাঁন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক পাটোয়ারী জানান ৩০ মার্চ সালেহা বেগম কে  তিনি ত্রাণ দিয়েছেন এবং গত মার্চ মাসে দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি তার নামে বরাদ্দ হয়ে আছে। এছাড়া ভিডিওতে যে ঘরটি দেখা যায়, সেই ঘরে ছালেহা ও তার মেয়ে স্বামী পরিত্যাক্ত মোছাঃ শাহিদা বেগম থাকেন না। সেই ঘরটি ছালেহার পরিত্যাক্ত ঘর, পাশে ভেঙ্গে পড়ে আছে। তিনি ওই ঘরের পাশের টিনের ঘরটিতে তার মেয়েসহ থাকেন। দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি বরাদ্দ পাওয়ায় তিনি আর এ ঘরটি মেরামত করছেন না।
স্থানীয়রা জানায়, আসলে কে বা কারা ওই সব ভিডিও তৈরী করে সমাজিক যোগোযোগের মাধ্যমে প্রচার করেছেন। আর যারা ভিডিও করেছেন তারা ছালেহাকে দিয়ে পরিত্যাক্ত ঘরের ভিডিও বানিয়ে  প্রচার করেছেন। আসলে ছালেহা ও তার বিধবা মেয়ে ওই ঘরে থাকেন না। তারা দুজন পাশের ঘরে থাকেন।  এছাড়া গত মাসে শুনেছি ছালেহার সরকারি ঘর বরাদ্দ হয়েছে। যারা এই সব ভিডিও তৈরি করে প্রচার করেন তারা জেনে- শুনে প্রচার করেন।  কারণ ছালেহার দু মাস আগে ঘর বরাদ্দ হয়েছে। যখন ছালেহা বরাদ্দকৃত ঘর পাবে, তখন তারা বলবেন আমাদের প্রচারের কারণে  ছালেহা ঘর পেয়েছে।  আসলে এগুলো ভিডিও তৈরি করেন লাইক, কমেন্ট এর জন্য আবার কখনো কখনো শুধু সোশ্যাল মেডিয়ায় সস্তাভাবে হিরো হওয়ার জন্য ওই সব ভিডিও প্রচার করেন। বিষয়টি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা মাত্র।
এ ব্যাপারে নাজিমখাঁন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক পাটোয়ারীর বলেন, এ কথা সত্য ভিখারিণী ছালেহা নিরুপায় ও অসহায়ভাবে জিবন -যাপন করছেন। কিন্তু প্রকৃত সত্যতা তুলে ধরা হয়নি।  সত্য এটাই যে ছালেহা ওই ঘরে থাকেন না। তিনি যে ঘরে থাকেন গত জানুয়ারী মাসে সেই ঘরে ছবি তুলে ছালেহার জন্য ঘর চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। সেই সময়ও  ছালেহার ঘরের পাশে ওই ঘরটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পরেছিল। গত ফেব্রুয়ারী মাসে  জমি আছে ঘর নাই প্রকল্প থেকে ছালেহার ঘর বরাদ্দ হয়ে আছে। করোনার ভয়াবহতার কারণে তা বাস্তাবায়ন হয়নি। করোনা পরিস্হিতি স্বাভাবিক হলে তাকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে।
এছাড়া তিনি বলেন গত ৩০ মার্চ মোছাঃ ছালেহা বেগমকে ত্রাণ দেয়া হয়েছিল। সেই সময় রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাঃ যোবায়ের হোসেন ও রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কৃষ্ণ কুমার সরকার উপস্থিত ছিলেন। সেই ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়েছে। মার্চ মাসে ছালেহাকে ঘর দেয়া হয়েছে এবং ৩০ মার্চ ত্রাণ দেয়া হয়েছে। এরপরও ১১ এপ্রিল আমার প্রতিপক্ষরা আমার মানসম্মান ক্ষূণ ও  আমাকে হেয়পূন্ন করা জন্য ছালেহাকে দিয়ে ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে। যা হীন স্বার্থ হাসিলের প্রয়াস।
এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাঃ যোবায়ের হোসেন বলেন, মোছাঃ ছালেহা বেগমকে আগেই ত্রাণ দেওয়া হয়েছে।  প্রয়োজন হলে তাকে আরও ত্রাণ দেয়া হবে। দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি (৩ লাখ টাকার) তার নামে ইতোমধ্যেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি কেটে গেলেই তাকে বাড়ি করে দেওয়া হবে। এছাড়া করোনার এই পরিস্থিতি না আসলে তিনিসহ অন্যরা এতদিন বাড়ি পেয়ে যেতেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।