বাংলাদেশ এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৮ জুলাই বাংলাদেশ এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের ‘বার্ষিক সম্মিলন ২০১৯’ উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন:

“বাংলাদেশ এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের ‘বার্ষিক সম্মিলন ২০১৯’ উপলক্ষে আমি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের সদস্যবৃন্দকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের সদস্যবৃন্দ কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে কাজ করে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিয়ে দেশ ও জাতির উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণ ও সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পুনর্গঠনে এ সার্ভিসের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় গৃহীত সকল সরকারি সিদ্ধান্তের তত্ত্বাবধান, বাস্তবায়ন এবং মূল্যায়নে এ ক্যাডারের সদস্যরা অন্যান্য সার্ভিসের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারের নীতি, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।

আওয়ামী লীগ সরকার একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকারি অফিসে সিটিজেন চার্টার বাস্তবায়ন, প্রায় ২৫ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ চালু, সকল ইউনিয়ন পর্যায়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার মত সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে দেশের জনগণের কাক্সিক্ষত সরকারি সেবাপ্রাপ্তি অত্যন্ত সহজলভ্য হয়েছে। আমরা সিভিল সার্ভিসের সামর্থ্য বহুগুণে বৃদ্ধি করেছি। সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১২৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধিসহ তাদের সুযোগ-সুবিধা বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে দেশের শান্তি, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকে গতিশীল করার লক্ষ্যে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ জনপ্রশাসন পদকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

দেশের জনগণ আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ে জনগণকে আরো সম্পৃক্ত করতে হবে। দারিদ্র্যকে এর সকল মাত্রায় সম্পূর্ণভাবে নির্মূলকল্পে প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, ন্যায়পরায়ণতা এবং সেবাপরায়ণতা নিশ্চিত করা হবে। নিয়মানুবর্তী ও জনগণের সেবক হিসেবে প্রশাসনকে গড়ে তোলার কাজ অগ্রসর করে নেওয়া হবে। গত সাড়ে দশ বছরে আমরা দেশের প্রতিটি সেক্টরে অগ্রগতি অর্জন করেছি। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ‘রোল মডেল’। ২০২১ সালের আগেই আমরা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করব, ইনশাআল্লাহ্।

আমি আশা করি, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের প্রত্যেক সদস্য সর্বোচ্চ দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

আমি বাংলাদেশ এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের ‘বার্ষিক সম্মিলন ২০১৯’ এর সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।