পোশাক রফতানি আয় কমে পরিস্থিতি হতাশাজনক

পোশাক রফতানি আয় কমে পরিস্থিতি হতাশাজনক
ইউরোপের পোশাক বাজারে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বে প্রতিবছর জমকালোভাবে পালন করা হয় খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে পোশাকসহ নানা পণ্যের বেচাকেনা বেড়ে যায়; নতুন পোশাকের দোকানগুলো থাকে ক্রেতামুখর। বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে মে-জুন মাসে বাংলাদেশে আসে নতুন ডিজাইনের বড়দিনের পোশাকের অর্ডার, যা সাধারণত সেপ্টেম্বরে বা অক্টোবরে রফতানি হয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের মধ্যে কেবল জুলাই ছাড়া বাকি তিন মাসেই তৈরি পোশাক রফতানি আয় কমেছে। ‘ক্রিসমাসকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর যে বড় ধরনের অর্ডার আসত, এবার তা পাইনি। মার্কিন ট্যারিফ জটিলতার কারণে ক্রেতারা অর্ডারের পরিমাণ কমিয়েছে।’ এবারের পরিস্থিতি হতাশাজনক বলেছেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

বৈশ্বিক মন্দা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কনীতি এবং ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে অর্ডার কমে গেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা-কোন দিকে পরিস্থিতি যাবে, সে দোলাচলে পশ্চিমা ক্রেতারাও অর্ডার কমিয়ে দিয়েছেন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রফতানির ইতিবাচক ধারায় ফিরতে এখনই সমন্বিত ও কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা দরকার।

এই সময়ে উচ্চমূল্যের ও নতুন ডিজাইনের পোশাকের চাহিদাও থাকে বেশি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের মধ্যে কেবল জুলাই ছাড়া বাকি তিন মাসেই তৈরি পোশাক রফতানি আয় কমেছে।

উদ্যোক্তাদের দাবি, ইউরোপের বাজার দখলে যখন চীন ও ভারত মরিয়া হয়ে উঠেছে, ঠিক সেই সময়ই বাংলাদেশে বিভিন্ন কারণে কয়েকশ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতা-যার প্রভাব পড়ছে নতুন ক্রয়াদেশেও।

বিজিএমইএর পরিচালক রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, ‘ক্রিসমাসের পণ্যের অর্ডার কমে গেছে। এর মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি পরিবর্তন এবং দেশের জাতীয় নির্বাচন সামনে থাকা। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার অর্ডার বাড়বে।’

বিটিএমএর সহ-সভাপতি সালেউদ জামান খান জানান, ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হলে ক্রেতারা পুনরায় অর্ডারের পরিমাণ বাড়াবে। এতে পোশাকশিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।’

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে রফতানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর উচিত সমন্বিত ও কৌশলগত পরিকল্পনা তৈরি করা। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, ‘বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকে নিজেদের উদ্যোগে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনী ইশতাহারে রফতানি খাতের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরতে হবে।’

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্দরের মাশুল কমানো ও শুল্ক-জটিলতা দূর করে রফতানিবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা না গেলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে যাবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।