পম্পেই নগরীর ধ্বংসস্তুপে অসাধারণভাবে সংরক্ষিত দেহ

পম্পেই নগরীর ধ্বংসস্তুপে অসাধারণভাবে সংরক্ষিত দেহ

পৃথিবীর প্রাচীনতম অভিজাত জনপদগুলোর একটি ছিল পম্পেই নগরী। ইতালির নেপলসের ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত শহরটিতে বাস ছিল ১৩ হাজার মানুষের। প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি ছিল নগরীটি। কিন্তু ৭৯ খ্রিস্টাব্দে পরিকল্পিত নগরীটি চাপা পড়েছিল পাশের ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট জ্বলন্ত লাভার নিচে। তাৎক্ষণিক জীবন্ত কবর রচিত হয় শহরের সব মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদসম্ভারের।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দে প্রত্নতাত্ত্বিক জিনিসের খোঁজে কয়েকজন উৎসাহী এসে পৌঁছেন ইতালির কাম্পানিয়া প্রদেশে। তাঁদের উদ্যোগে পম্পেইয়ের ধ্বংসস্তূপে শুরু হয় খনন। আজ পর্যন্ত পম্পেই থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১১৫০টি প্রস্তরীভূত কঙ্কাল। তাদের অবস্থান দেখে বোঝা যায়, আচমকা বিপর্যয় ধেয়ে আসায় তাঁরা পালানোর সুযোগ পায়নি বা পালাতে গিয়েও মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়েছে।

শনিবার ২১ নভেম্বর ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বলছে, পম্পেই নগরীতে ৭৯ খ্রিস্টাব্দে ভিসুভিয়াস পর্বতের অগ্ন্যুৎপাতে পুড়ে মরা দু’জন ব্যক্তির দেহাবশেষ আবিষ্কার করেছে। তাদের দু’জনের দেহবশেষ অসাধারণভাবে সংরক্ষিত ছিল ধ্বংসস্তুপে! তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একজনের সম্ভবত উচ্চ শ্রেণির মানুষ। তার বয়স হয়তো ৩০ থেকে ৪০ বয়সের মধ্যে। তার ঘাড়ের নিচে পশমের তৈরি কাপড়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, দ্বিতীয় যে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয় তার বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়স। তার পরনে ছিল বিশেষ ধরনের কাপড়। বেশ কয়েকটি চূর্ণ-বিচূর্ণ কশেরুকা ছিল। এই বিষয়টি এমনটাই ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি ভারি পরিশ্রম করতেন এমন দাস ছিলেন।

এক বিবৃতিতে ইতালির সংস্কৃতি মন্ত্রী ডারিও ফ্রান্সেসিচিনি বলেন, এই ধরনের আবিষ্কার পম্পেইকে ‘গবেষণা ও অধ্যয়নের জন্য অবিশ্বাস্য জায়গা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেহাবশেষগুলো সিভিটা গিউলিয়ানা নামক একটি অঞ্চলে পাওয়া যায়। প্রাচীন পম্পেইয়ের কেন্দ্র থেকে ৭০০ মিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই অঞ্চলটি। সেখানে খনন করা এক বিশাল চেম্বার থেকে তাদের দেহাবশেষগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষগুলোর হাড় ও দাঁতগুলো এখনো সুরক্ষিত। আর বাকি অংশগুলো পলেস্তারায় ঢেকে পড়েছিল।

প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটটির পরিচালক মাসিমো ওসান্না বলেন, এই দুই ভুক্তভোগী সম্ভবত সকাল ৯টার দিকে অগ্ন্যুৎপাতের লাভার স্রোতে ভেসে যাওয়ার সময় আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের মৃত্যু হয় অতিরিক্ত তাপের কারণে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।