এন এ রবিউল হাসান লিটন, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড় জেলার বিলুপ্ত ৩৬টি ছিটমহলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এক বছর পূর্তি উৎসব পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল পুষ্পাঞ্জলী অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি, আলোচনা সভা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অন্যতম। রাত ১২টা ১ মিনিটে জেলার সদর উপজেলার গাড়াতি (ছিট এলাকা) মফিজার রহমান
কলেজ মাঠে নির্মিত শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পাঞ্জলী অর্পণ করা হয়। পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট, পঞ্চগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মমিনুল ইসলাম মমিন, হাফিজাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহাদাত হোসেন, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ ইউনিটের নেতা মো. মফিজার রহমানসহ কয়েক শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সর্বস্তরের মানুষ আতশবাজি জ্বালিয়ে আনন্দ উৎসব করেন। সোমবার সকালে মফিজার রহমান কলেজ প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা মুনতাজেরী দীনা। এর পর কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি বের করা হয়। র্যালি গ্রামের বিভিন্ন মেঠো পথ প্রদক্ষিণ করে আবার সেখানে গিয়ে শেষ হয়। এরপর শুরু হয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। উপলক্ষে ৩১ জুলাই গঞ্চগড়ের ছিটমহল মুক্ত দিবস। ২০১৫ সালের এই দিনে গঞ্চগড়ের ৬৮ বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটে। ১৯৭৪-এ স্থল সীমান্ত চুক্তি (মুজিব-ইন্দীরা চুক্তি) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিনিময় হয় ১৬২টি ছিটমহলের। ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের ভূখণ্ড এবং ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতের ভূখণ্ড হয়ে যায়। এতে দুই দেশেরই মানচিত্র পূর্ণতা পায় আর ছিটমহলবাসী পায় দীর্ঘ ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি। এর মধে্য পঞ্চগড়ের তিন উপজেলার ৩৬টি বিলুপ্ত ছিটমহল বাংলাদেশের অর্ন্তভুক্ত হয়।





