নেপালের নুয়াকোট জেলার বেত্রাবতীতে একটি বাড়ি থেকে মঙ্গলবার সকালে ২৩টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতের কুশিনগরে গণ্ডক নদী থেকে ১৩টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন নারী ও সাতজন পুরুষ রয়েছেন।
এদিকে, নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার মানুষ । উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে ২২ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) মুখপাত্র শান্তি মাহাত জানান, সোমবার পর্যন্ত বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো প্রায় ৪ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্গত এলাকায় অন্তত ১৬টি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারও উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করেছে।
উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনাবাহিনীর সদস্যরাও অংশ নিচ্ছেন। এরই মধ্যে আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ২৫৪ জন শ্রমিক ও কারিগরকে উদ্ধার করা হয়েছে। টানেলে আটকা পড়া বা নিখোঁজদের সন্ধানে ভারত ও চীনের টানেল উদ্ধার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় অভিযান চলছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৯২৭টি মরদেহ ময়নাতদন্ত ও সংরক্ষণের জন্য সিল করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর ৫১টি মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে এখনো ৭২৬টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর মধ্যে ৪১৩টি মরদেহ আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দাফন বা ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে।
এ ছাড়া বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত ২ হাজার ৯৭০ জনের জন্য বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে বিষ্ণুমতী নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে এনডিআরআরএমএ। কাঠমান্ডুর গঙ্গাবু এলাকার কাছে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।


