দশ মাস মেয়াদি প্রকল্পের কাজ দুই বছরেও শেষ হয়নি

দশ মাস মেয়াদি প্রকল্পের কাজ দুই বছরেও শেষ হয়নি
  • কাজ রেখে মাঝপথে লাপাত্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান
  • সেই কাজ করছে আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান
  • দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের
  • যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা
  • এই মাসের মধ্যে ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হওয়ার আশ্বাস সিসিকের প্রধান প্রকৌশলীর
সিলেট নগরীর কুয়ারপাড় এলাকা থেকে লালাদীঘিরপাড় এলাকায় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছিলো ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে। দশ মাস মেয়াদের এই প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুলাই মাসে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও দুই বছরের শেষ হয়নি কাজ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এ এলাকার বাসিন্দাদের। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার গর্তে পানি জমে বেহাল দশা হয়ে যায়, এতে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্থানীয়দের।
জানা যায়, ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে কুয়ারপাড় থেকে লালাদিঘীরপাড় পর্যন্ত দেড় মিটার প্রস্থের ৮৬০ মিটার দীর্ঘ ড্রেন নির্মাণ, এরপর সড়ক প্রশস্থকরণের জন্য ৬৭৮ মিটার সীমানা দেয়াল নির্মাণ করা কথা রয়েছে, সেই কাজ শেষ হলে শুরু হবে রাস্তার কাজ। সব মিলিয়ে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ২০২১ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজের মেয়াদ ছিল দশ মাস। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সে কাজ এখনও শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
সেসময় ড্রেন নির্মাণের জন্য ১১ নং ওয়ার্ড এলাকায় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকায় কাজ পায় মেসাস নুরুল এন্ড হাসনা ট্রেডিং নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর বাকি অংশের কাজ ৯০ লাখ টাকায় পায় মেসাস এসএম ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বেশ কিছুদিন তারা কাজ করলেও সে বছরের শেষের দিকে তাদের সব জিনিসপত্র নিয়ে প্রকল্প এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এরপর থেকে বন্ধ হয়ে যায় এই উন্নয়ন কাজ।
কাজ করার শুরুর দিকে এলাকার কিছু লোক নিজের জমি দিতে না চাইলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়, এরপর স্থানীয় কাউন্সিলর ও তৎকালীন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ এলাকার সবাই বসে বিষয়টি সমাধান হয়। এরপর আবারও কাজ শুরু হয়। ড্রেনের কাজ করার সময় রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়, সেই গর্তে একটু বৃষ্টি হলে পানি জমে যায় ফলে রাস্তা দিয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তাছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ড্রেনের ঢাকনা খোলা অবস্থায় রয়েছে এতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে পাশাপাশি সেই খোলা ড্রেনে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
কুয়ারপাড় এলাকার ব্যবসায়ী তাফদিল আহমেদ বলেন, এতোদিন হয়ে গেলো ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হয়নি, এখনি রাস্তার কাজ বাকি রয়েছে। কবে এই ভোগান্তি শেষ হবে তা জানা নেই। সিসিক কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে নিশ্চুপ রয়েছে। আর ভোগান্তি পড়েছেন এই রাস্তা দিয়ে যারা যাতায়াত করছেন তারা। আগে যারা কাজের দায়িত্বে ছিলেন তারা দীর্ঘদিন কাজ করেন নি। গত দুই দিন থেকে আবারও কাজ শুরু হয়েছে দেখলাম। আমরা চাই দ্রুত এ কাজটি শেষ হোক।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
কুয়ারপাড় এলাকায় সিসিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী রাখু বলেন, সিসিকের ১১ নং ওয়ার্ডের অংশের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়। আরেকটু কাজ হলেও এই ওয়ার্ডের অংশের ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। এর আগে যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ করেছিলো তারা মাঝপথে কাজ রেখে চলে যায়, এরপর আরেক প্রতিষ্ঠানকে বাকি কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। আগের যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ছিল তারা যতটুকু কাজ করেছে সেই বিল তারা তুলে নিয়েছে।
এ ব্যাপারে সিসিকের ১১ নং ওয়ার্ডেরে কাউন্সিলর আব্দুর রকিব বাবলু বলেন, আমার ওয়ার্ডে যে অংশ পড়েছে আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সিসিক কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে কাজ আবারও শুরু করিয়েছি। আমার ওয়ার্ডের অংশের কাজ প্রায় শেষ কয়েকটি স্লাবের কাজ সম্পন্ন হলেই সম্পূর্ণ ড্রেনের কাজ শেষ হয়ে যাবে। আগে যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছিলো, তারা মাঝপথে কাজ রেখে চলে যায়। শুনেছি তারা যতটুকু কাজ করেছেন ততটুকুর বিল তুলে নিয়েছে। এখন নতুন একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেখানে কাজ করছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আলী আকবর বলেন, এই প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এমন বাধা আমরা অন্য কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে পাইনি। যেহেতু কুয়ারপাড় থেকে লালাদীঘিপাড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্থকরণের জন্য প্রকল্পটি ছিল, সেহেতু দুই পাশে অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এলাকার একজন জায়গা দিতে চাইলে আরেকজন দিতে চায় না। এভাবেই অল্প অল্প করে কাজ এগোতে হয়। তবে বেশিরভাগ লোকজন নিজের জায়গা ছাড়তে চায়নি। এজন্যে কাজের অগ্রগতি কম হয়েছে। আমরাও সেখানে অসহায়ের মতো ছিলাম।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠিত চলে গিয়েছে। এজন্য কাজ করতে দেরি হচ্ছে। তবে এখন আবারও পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কেউ নিজের জায়গা ছেড়ে দিতে চায় না। এজন্য সময় কিছুটা বেশি লাগছে। তবে আশা করছি এই মাসের মধ্যে বাকি অংশের কাজ শেষ হয়ে যাবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।