সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জিএম কাদেরের

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জিএম কাদেরের

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের মধ্যে যারা রাজনীতি করে অথবা বিত্তশালী,তারা কোনোমতে ভালো আছে। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের সংখ্যালঘুরা  আছে। দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের।

আজ শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট আয়োজিত জাতীয় হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালীদের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে হতদরিদ্র সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের জমি দখলের চেষ্টা করেন।’জাতীয় পার্টির দরজা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য সব সময় খোলা আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, গত বছরে শুধু সুইস ব্যাংকেই চার লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। আর এ কারণে গভীর ঝুঁকির দিকে এগোচ্ছে দেশের অর্থনীতি। জাতীয় বাজেট হচ্ছে শতভাগ দেশি-বিদেশি ঋণনির্ভর। দেশের পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করতে হবে ট্যাক্স আদায়ের মাধ্যমে। মানুষের যদি আয় না থাকে অথবা কষ্টে জীবন যাপন করে, তাহলে ট্যাক্স দেবে কীভাবে?

জি এম কাদের বলেন, দেশে মেগা প্রকল্প চলছে মেগা দুর্নীতির জন্য। প্রতিটি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে এবং নির্দিষ্ট বরাদ্দে কোনো কাজ শেষ হয় না। প্রতিটি প্রকল্পে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এতে প্রমাণ হয়, সম্ভাব্যতা যাচাই সঠিক ছিল না। আবার অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে এ প্রকল্পগুলো কখনোই লাভজনক হবে না।ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

জাপার চেয়ারম‌্যান বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। ইভিএমের মাধ্যমে সেটা সম্ভব নয়। ইভিএম হলে এটা কারচুপির নির্বাচন হবে, সরকার যাকে চাইবে তাকেই পাস করিয়ে দিতে পারবে। ইভিএম হলো শান্তিপূর্ণ কারচুপির মেশিন। আমরা মনে করি, ইভিএমের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য কোনো নির্বাচন হবে না।’

জিএম কাদের বলেন, ‘এই অবস্থায় আমরা নির্বাচন করব, নাকি বর্জন করব, কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত। বিভিন্ন রাজনৈতিক দিক পর্যালোচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর জনগণের কথা ভাবতে হলে আমাদের সামনের দিকে এগোতেই হবে।

জিএম কাদের বলেন, ‘একসময় আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলাম, একসঙ্গে নির্বাচন করেছি। আমরা যেদিন থেকে বিরোধী দল হিসেবে কাজ করছি, সেদিন থেকেই আমরা আর আওয়ামী লীগে নেই, জোটে নেই।’  আমাদের জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কাজ করেছেন,আমরাও তাদের জন্য কাজ করেছি। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল, এখনও কিছুটা আছে। তাই তাদের ভালো কাজের প্রশংসা করেছি। এখন জনগণের স্বার্থে যদি তারা কাজ না করে তাহলে কেন আমরা তাদের সাথে থাকব?জাতীয় হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলন

সমাবেশে হিন্দুদের জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসন এবং সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানানো হয়। এছাড়া, রথযাত্রা উৎসবে সরকারি ছুটির ঘোষণার দাবি জানান বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নেতারা।

জাতীয় হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলন উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি বিধান বিহারী গোস্বামী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক,নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায়, যুগ্ম মহাসচিব সুজন দে, সাংগঠনিক সম্পাদক সুশান্ত কুমার চক্রবর্তী প্রমূখ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।