আগৈলঝাড়ায় ছদ্মবেশী নারী দিয়ে জমি বিক্রির অভিযোগ, জাল দলিল বাতিলের দাবি

আগৈলঝাড়ায় ছদ্মবেশী নারী দিয়ে জমি বিক্রির অভিযোগ, জাল দলিল বাতিলের দাবি
ছদ্মবেশী নারী দিয়ে জমি বিক্রি

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বেলুহার মৌজার একটি জমি ছদ্মবেশী নারীকে নিজের পরিচয়ে হাজির করে প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দাবি করা ফাতেমা তুন আঁখি সুষ্ঠু তদন্ত, কথিত জাল দলিল বাতিল এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।

ফাতেমা তুন আঁখির ভাষ্য অনুযায়ী, তার প্রয়াত মা রাশিদা মোহসিনের নামে বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বেলুহার মৌজার ২৬৫ ও ১৬৪ নম্বর খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে প্রায় ২২ শতাংশ জমি রয়েছে। তার মা ২৫ মার্চ ২০১২ সালে মারা যান। তিনি জানান, ইসলামি উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী অন্য সম্পত্তি থেকে তার প্রাপ্য অংশের একটি অংশ ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে বেলুহারের ওই জমিই তার বৈধ অংশ হিসেবে অবশিষ্ট রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, তার আপন ভাই শেখ মো. মোস্তাফিজুর রহমান তার অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই অন্য এক নারীকে তার পরিচয়ে দাঁড় করিয়ে গত ২৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে আগৈলঝাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১৬২৪ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ওই জমি বেলুহার এলাকার বাসিন্দা রোজিনা বেগমের কাছে বিক্রি করেন।

ফাতেমা তুন আঁখির দাবি, এ ঘটনার ফলে তিনি তার বৈধ সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত;
  • কথিত জাল দলিল বাতিল;
  • অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ;
  • তার ২২ শতাংশ জমির বৈধ মালিকানা ও দখল ফিরিয়ে দেওয়া;
  • ভবিষ্যতে কোনো নারী যেন এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টির গুরুত্বসহকারে তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “দলিল লেখক মো. শহিদুল ইসলামের দেওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই দলিলটি নিবন্ধন করা হয়েছে।”

আরও এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যদি জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

উল্লেখ্য, জমি বিক্রিতে প্রতারণার অভিযোগটি বর্তমানে অভিযোগকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে উত্থাপিত হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।