বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: বেনাপোল সীমান্তে অরক্ষিত বাংলাদেশ প্রবেশদ্বার শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশের পর নিরাপত্তা জোরদার ও নিয়মের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার (০৭ আগস্ট) বিকেলে বেনাপোল সীমান্তের চেকপোস্টে গিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশ প্রবেশদ্বারের সামনে বিজিবি সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়েছেন। সেখানে ভারতীয় প্রবেশদ্বারের মতো টেবিল, চেয়ার, খাতা, কলম নিয়ে বিজিবি সদস্যরাও কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আগে বিজিবির এ ধরনের কোনো কার্যক্রম ছিলো না।
দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতকারী ভারত ও বাংলাদেশিরা চেকপোস্টে বিজিবির রেজিস্টারে এখন তাদের নাম ঠিকানা ও সংশ্লিষ্ট অফিসের নাম এন্ট্রি ও পরিচয়পত্র দেখিয়ে তবেই যাতায়াতের অনুমতি পাচ্ছেন।
সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো বিষয়ক সম্পাদক মাহাবুব হোসেন বাংলানিউজকে জানান, বিজিবি সদস্যরা বাংলাদেশ গেটের সামনে টেবিল, চেয়ার পেতে এই প্রথম ভারতীয় গেটের মতো কার্যক্রম শুরু করেছেন। এতে বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতকারী কার্ডধারী বৈধ মানুষ ছাড়া অন্যদের শুন্য রেখায় প্রবেশের আর সুযোগ থাকছে না। এ নিয়ম চালু থাকলে সুরক্ষা বাড়বে।
সিআ্যান্ডএফ কর্মচারী আমিনুর রহমান তুহিন বাংলানিউজকে জানান, তিনি ১৮ বছর ধরে একটি অফিসে কাজ করছেন। এই প্রথম সোমবার তিনি বিজিবি সদস্যদের নতুন নিয়মে রেজিস্টারে স্বাক্ষর করে পরিচয়পত্র দেখিয়ে ব্যবসায়িক কাজে ভারতে গিয়েছিলেন। তারাও চান নিয়মের মধ্যে এ কার্যক্রম চালু থাকুক।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এটি একটি প্রধান নিরাপত্তা গেট। এপথে বাণিজ্য শুরুর প্রথম থেকে ভারতীয় প্রবেশদ্বারে সীমান্তরক্ষী বিএসএফ, কাস্টমস ও পরে আই ভি পুলিশ (দিল্লি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ) নিরাপত্তায় কাজ করে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশ গেটে বিজিবির এ ধরনের কোনো কার্যক্রম ছিলো না। ফলে অবাধে এসব লোকজন যাতায়াত করতেন। এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অনিয়ম হতো বলে অভিযোগ পাওয়া যেতো।
যোগাযোগ করা হলে বিজিবি ৪৯ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার (সিও) লে. কর্নেল আরিফুল হক বাংলানিউজকে বলেন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের ভারতে কিংবা বাংলাদেশে যাওয়া আসার বিষয়টি খাতায় লেখা হচ্ছে। তারা কতক্ষণ ছিলেন ও কখন গেলেন তার মধ্যে একটা চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স (ভারসাম্য) আনতে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।





