দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগের মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগের মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী
দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগের মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এসব উদ্যোগ সমাজের অন্য মানুষকেও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ নিজ উদ্যোগ ও কর্মের মাধ্যমে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সাক্ষাৎকারে নায়লা শারাফ, মো. আলতাফ হোসেন ও রেজাউল কিবরিয়া বাবুল তাদের জীবনসংগ্রাম এবং সমাজের জন্য পরিচালিত ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন—বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং প্রায় তিন দশক ধরে নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

হাসান শিপলু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে তিনজনই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রধানমন্ত্রী তাদের জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এবং সমাজের কল্যাণে পরিচালিত কার্যক্রম মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পাশাপাশি তাদের কাজের প্রশংসা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

বুয়েটের পড়াশোনা শেষে শিক্ষকতা বেছে নেন নায়লা

নায়লা শারাফ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন তিনি। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন নায়লা।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ ও আনন্দদায়ক করতে নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন তিনি।

দুই হাত না থাকলেও স্কুল প্রতিষ্ঠা আলতাফের

নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে থামাতে পারেনি। পা দিয়ে লেখার দক্ষতা অর্জন করে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’।

নিজের সঞ্চয় এবং পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। স্কুলটিতে কর্মরত রয়েছেন ১০ জন শিক্ষক। পা দিয়েই লেখালেখি ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন আলতাফ।

তার জীবনসংগ্রামের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী নতুন স্কুলভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ বাবুলের

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।

পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। সেখানে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করতে থাকেন। তার লাগানো অধিকাংশ গাছ এখন পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

তিনজনের এসব উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সমাজ ও দেশের কল্যাণে এ ধরনের ব্যক্তিগত উদ্যোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।