পল্লী বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ গ্রাহক

ইমদাদুল হক, পাইকগাছা ॥ পবিত্র রমজানের প্রথম দিকে পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও অতিসম্প্রতি বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের মাত্রা ফের অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় সারাদিনই পল্লী বিদ্যুতের দেখা মিলছে না পাইকগাছায়। আবার সন্ধ্যা নামার সাথেই শুরু হয় লোডশেডিং, থেমে থেমে চলে রাতভর।

প্রচন্ড ভ্যাপসা গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় রোজাদার মুসল্লিদের নাভিশ্বাস উঠেছে। সব মিলিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি অধিনস্থ পাইকগাছা জোনাল অফিসের আওতাধীন (পাইকগাছা-কয়রার) প্রায় ত্রিশ হাজার গ্রাহক। লোডশেডিং, টেকনিক্যাল প্রবলেম, ওভার লোড ও লো-ভোল্টেজ ছাড়াও রয়েছে ঘন ঘন ট্রিপ ও সোর্স লাইন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ, সর্বপরী বৃষ্টিকাল শুরু হয়েছে-আকাশে মেঘ জমতে দেখলেই বা বিদ্যুতের তারে বৃষ্টির পানি পড়লেই অমনি বিদ্যুৎ চলে যায়।

আবার বিদ্যুৎ থাক বা না থাক মাস শেষে মোটা অংকের বিদ্যুৎ বিল ধরিয়ে দিতে ভুল করেনা বিদ্যুৎ বিভাগ। যদিও বিদ্যুৎ থাকা না থাকার ওপর নির্ভর করে বিদ্যুতের ব্যবহার, অথচ কোন কোন মাসে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ হলেও কোন মাসেই বিদ্যুৎ বিল কমতে জানে না। ওদিকে এক মাস অথবা সর্বোচ্চ দু’মাস বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়লেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে খুবই ওস্তাদ বিদ্যুৎ বিভাগের লাইনম্যানেরা। খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধিনস্থ পাইকগাছা জোনাল অফিসের আওতাধীণ (পাইকগাছা-কয়রার) প্রায় ত্রিশ হাজার গ্রাহক পল্লী বিদ্যুৎ নিয়ে পড়েছেন মহাবিপাকে।

‎এদিকে‬ প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু সময় বিদ্যুতের লোডশেডিং যেন রুটিনে পরিণত হয়েছে এখানে। যেমন প্রতিদিন সন্ধ্যায়, দুপুরে এবং গভীর বা ভোররাতে পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং হতে দিতেই হবে পাইকগাছায়। প্রতি ভোররাত ৪/৫টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায় এবং পরবর্তীতে সকাল ৭/৮টার দিকে বা তারও পরে বিদ্যুতের দেখা মেলে। ‎

স্থানীয়‬ গ্রাহকের অভিযোগ, বরাবরই বিদ্যুৎ প্রাপ্তিতে বৈষম্যের শিকার পাইকগাছা-কয়রাবাসি। দিনরাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাইকগাছা-কয়রায় টানা দু’চার ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না কখনও। এখন নতুন করে শুরু হয়েছে ভোররাতে বিদ্যুতের লুকোচুরি। যদিও ভোররাতে বিদ্যুৎ যাওয়াটা নতুন কিছু নয়। ওই সময় সাধারণত মানুষ ঘুমিয়ে থাকে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এদিকে পৌর তথা উপজেলা শহর ও আশপাশেও অঞ্চল ভেদে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ রয়েছে তো বোয়ালিয়া বা পাইকগাছারই অন্য স্থানে বিদ্যুৎ নেই। আবার উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ নেই তো ওই সময়ই খড়িয়া এলাকায় বিদ্যুৎ থাকার খবর পাওয়া গেছে। পল্লী বিদ্যুতের এই বৈষম্য দূর করতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।